অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে ও মামলা বাতিল চেয়ে বরখাস্ত হওয়া টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশের করা আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে তার বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতে মামলাটি চলতে বাঁধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
মঙ্গলবার বিচারপতি এস এম আব্দুল মোমেন ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে প্রদীপের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনসুরুল হক চৌধুরী। দুদকের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।
এর আগে ২০২০ সালের ২৩ আগস্ট দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে প্রদীপের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেন।
এরপর ২০২১ সালের ২৬ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনেরর (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর ১ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্রের ওপর শুনানি হয়। ২৯ জুন দুপুরে চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ ও মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত প্রদীপ কুমার দাশের অবৈধ সম্পদ দেখভালের দায়িত্ব কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে দেন।
পরে গত ২০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিনের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত প্রদীপ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের করা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার এজাহারে উল্লিখিত সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন।
২০২১ সালের ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মুন্সী আবদুল মজিদের আদালত প্রদীপের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।
এরপর গত ৩০ জানুয়ারি অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে ও মামলা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন জানান প্রদীপ কুমার দাশ।
প্রসঙ্গত, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে আছেন প্রদীপ কুমার দাশ।