সোমবার ৩০ জানুয়ারী ২০২৩
      Beta

গরু জবাই বন্ধ হলেই বিশ্বে কোনো সমস্যা থাকবে না, আদালতের পর্যবেক্ষণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশের সময় : সোমবার ২৩ জানুয়ারী ২০২৩ ০৫:১২:০০ অপরাহ্ন | অন্যরকম

যখন পৃথিবীতে গরুর একফোঁটাও রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যাবে, তখন বিশ্বের সমস্ত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এবং বিশ্বের মঙ্গল হবে বলে পর্যবেক্ষণে বলেছেন ভারতের গুজরাটের একটি আদালত।

অবৈধভাবে গরু নিয়ে যাওয়ার জন্য এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়ার সময় মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক এ মন্তব্য করেন।

ওই আদালত পর্যবেক্ষণে আরও বলেছেন, “গরু সাধারণ কোনও প্রাণী নয়। কিন্তুগরু হল মা। ৬৮ কোটি পবিত্র স্থান ও ৩৩ কোটি দেবদেবীর জীবন্ত গ্রহ।”

ভারতের আইনি সংবাদবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘লাইভ ল’র বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমিএনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, অবৈধভাবে গবাদি পশু পরিবহনের মামলায় এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার সময় গরু জবাইয়ের বিষয়ে কিছু ‘বিতর্কিত’ পর্যবেক্ষণ দেন গুজরাট রাজ্যের তাপি জেলা জজ আদালতের বিচারক সমীর বিনোদচন্দ্র ব্যাস।

সংবাদমাধ্যম বার এন্ড বেঞ্চ’র বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস, টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের নভেম্বরে পর্যবেক্ষণে ওইসব মন্তব্য করেছিলেন মুখ্য জেলা বিচারক।  বিনোদচন্দ্র ব্যাস তাঁর পর্যবেক্ষেণে বলেন, 'গরু নেহাত কোনও প্রাণী নয়। কিন্তু গরু হল মা। তাই গরুকে মায়ের তকমা দেওয়া হয়েছে। গরুর মতো কেউ কৃতজ্ঞ হয় না। ৬৮ কোটি পবিত্র স্থান ও ৩৩ কোটি দেবদেবীর জীবন্ত গ্রহ।' তিনি আরও বলেন, ‘যখন পৃথিবীতে গরুর একফোঁটাও রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যাবে, তখন বিশ্বের সমস্ত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এবং বিশ্বের মঙ্গল হবে।’

যে মামলায় এসব পর্যবেক্ষণ দেন বিচারক?

ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাকে চাপিয়ে বেআইনিভাবে ১৬ টি গরু-সহ বাছুরদের মহারাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ২০২০ সালের ২৭ অগস্ট মোহাম্মদ আমিন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। যে ট্রাকে গবাদি পশুদের বসার, খাওয়ার বা পান করার উপযুক্ত জায়গা ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছিল। ২০১৭ সালের গুজরাট প্রাণী সংরক্ষণ (সংশোধনী) আইন, ১৯৬০ সালের পশুদের উপর নৃশংসতা বিরোধী আইন-সহ একাধিক আইনের ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছিল।

 

সেই মামলায় মোহাম্মদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে তাপির আদালত। সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, রায়ে বিচারক জানিয়েছেন যে গরুকে শুধুমাত্র ধর্মীয় দিক থেকে বিবেচনা করা উচিত নয়। আর্থিক, সামাজিক, বৈজ্ঞানিক এবং স্বাস্থ্যগত দিকও বিবেচনা করা উচিত। অথচ এখন যান্ত্রিকভাবে গো-হত্যা করা হচ্ছে। যা গরুদের 'জীবনের বড় বিপদ' বলে মন্তব্য করেন বিচারক।