শান্তিরক্ষায় আত্মত্যাগ, জাতিসংঘের সর্বোচ্চ মরণোত্তর সম্মান পেলেন ৬ বাংলাদেশি

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুন ৬, ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম

শান্তিরক্ষায় আত্মত্যাগ, জাতিসংঘের সর্বোচ্চ মরণোত্তর সম্মান পেলেন ৬ বাংলাদেশি

জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী । ছবি: সংগৃহীত।

আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে জীবন উৎসর্গ করা ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে সম্মানিত করেছে জাতিসংঘ। নিউইয়র্কে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
শুক্রবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিহত শান্তিরক্ষীদের পক্ষে পদকগুলো বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরীর হাতে তুলে দেন।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন জানিয়েছে, বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় অসামান্য সাহস, দায়িত্ববোধ এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

সম্মাননাপ্রাপ্ত ছয় শান্তিরক্ষী হলেন করপোরাল মো. মাসুদ রানা, প্রাইভেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রাইভেট মো. সবুজ মিয়া, প্রাইভেট মো. মোমিনুল ইসলাম, প্রাইভেট শামীম রেজা এবং প্রাইভেট সান্তো মন্ডল। তারা সুদানের কাদুগলি এলাকায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর এক ড্রোন হামলায় নিহত হন।

অনুষ্ঠানে ১৯৪৮ সাল থেকে জাতিসংঘের বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারানো প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষীর স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। একই সঙ্গে বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মরত ৫০ হাজারের বেশি শান্তিরক্ষীর অবদানের কথাও তুলে ধরা হয়।
চলতি বছর ৩৩টি দেশের মোট ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী নিহত শান্তিরক্ষীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক চালু করে। শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে নিহত সদস্যদের বীরত্ব, অবদান এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

Link copied!