সংগৃহীত ছবি
শেখ রেহানা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ছোট কন্যা। যিনি সবার কাছে ‘ছোটো আপা’ হিসেবে বেশি পরিচিত। রাজনীতির অঙ্গন থেকে কিছুটা নিজেকে দূরেই রাখেন তিনি।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে যখন বঙ্গবন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা নৃশৎসভাবে হত্যার শিকার হন সে সময় বড় বোন শেখ হাসিনার সাথে পশ্চিম জার্মানিতে থাকায় বেঁচে যান শেখ রেহানা। শেখ হাসিনার স্বামী এম.এ. ওয়াজেদ মিয়ার কর্মস্থল জার্মানির কার্লসরুইয়ে ছিলেন তারা।
হত্যার খবর পাওয়ার পর সেখান থেকে ভারতে যান দুই বোন। পরে শেখ রেহানা পরিবার নিয়ে যুক্তরাজ্যে চলে যান। যুক্তরাজ্যে ‘রাজনৈতিক আশ্রয়’ পাওয়ার পর থেকে সেখানেই থাকেন। এখনও কর্মজীবী হিসেবে সেখানে অনাড়ম্বর জীবন যাপন করছেন।
১৯৭৯ সালে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিরুদ্ধে বিচারের জন্য প্রথম বিশ্বব্যাপী আহ্বান জানানোর কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন শেখ রেহানা। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন সামরিক সমর্থিত বাংলাদেশ সরকারের ওপর বৈশ্বিক চাপ সৃষ্টির জন্য আওয়াজ তুলতে ইউরোপে থাকা ছোট বোনকে সেখানে পাঠিয়েছিলেন সেসময় দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা।
সুইডেনের স্টকহোমে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু এবং ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিরাপত্তা হেফাজতে নিহত জাতীয় চার নেতার হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে প্রথম বিচারের আন্তর্জাতিক আহ্বান উত্থাপন করেন তিনি।
পরে ১৯৭৯ সালের ১০ মে একটি সর্ব-ইউরোপীয় বাকশাল সম্মেলনে বক্তৃতার মাধ্যমে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়ের দিকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সেই সম্মেলনে ইউরোপীয় দেশসমূহের প্রধান, জাতিসংঘ প্রধান এবং আন্তর্জাতিক এনজিও’র উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সেই আবেগঘন ভাষণের মধ্য দিয়ে তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারের ওপর বৈশ্বিক চাপ সৃষ্টির জন্য তার কণ্ঠস্বর উত্থাপিত হওয়ায়- সেই ঘটনা ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে।
ব্যক্তিগত জীবনে প্রফেসর ড. শফিক আহমেদ সিদ্দিককে বিয়ে করেছিলেন। তাদের তিন সন্তান- এক ছেলে ও দুই মেয়ে।
ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত এবং আওয়ামী লীগের গবেষণা শাখা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)-এর ট্রাস্টি, মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটিশ পার্লামেন্টের লেবার পার্টির এমপি এবং কনিষ্ঠ মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তি লন্ডনভিত্তিক কন্ট্রোল রিস্কস-এর গ্লোবাল রিস্কস এনালিসিস এডিটর হিসেবে কাজ করছেন।
প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতিতে না জড়ালেও জনকল্যাণকর কাজে সব সময় ভূমিকা রেখে আসছেন বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যা। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক বাড়িটি স্মৃতি জাদুঘর করে দেশের জনগণের জন্য উৎসর্গ করেছেন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা। একইভাবে ধানমন্ডিতে শেখ রেহানার নামে বরাদ্দ বাড়িটিও দেশের কাজে দান করা হয়েছে।
আজ এই অসাধারণ ব্যক্তিত্বের সাধারণ মানুষটির জন্মদিন। ১৯৫৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন তিনি। জন্মদিনে তেমন কোনো আড়ম্বর আয়োজন কখনোই করেননি তিনি। শুধু পরিবারের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিয়ে জন্মদিন উদযাপিত হবে।