রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে ২০০৭-০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তি এবং সাবেক সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
সোমবার দিবাগত রাতে বারিধারা ডিওএইচএস-এর ২ নম্বর রোডের একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। মঙ্গলবার সকালে ডিবির প্রধান ডিআইজি শফিকুল ইসলাম এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গণমাধ্যমকর্মীদের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা তাকে হেফাজতে নিয়েছি। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে অন্তত পাঁচটি মামলা ঝুলে রয়েছে।”
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে এই সাবেক থ্রি-স্টার জেনারেলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।
২০২৫ সালের আগস্টে সিআইডি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করে। তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান `ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল`-এর মাধ্যমে মালয়েশিয়াগামী প্রায় ১০ হাজার কর্মীর কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে ১০০ কোটি টাকারও বেশি আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সাবেক প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ এবং অন্যান্য সংসদ সদস্যদের সাথে তাকেও ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ২৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল জনশক্তি নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত করা হয়।
২০০৭-০৮ সালের আলোচিত ১/১১ সরকার চলাকালীন তিনি ‘জাতীয় সমন্বয় কমিটি’র প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই সময় রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি।
৯ পদাতিক ডিভিশনের সাবেক জিওসি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী তৎকালীন সময়ে শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রীসহ) গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে নেপথ্যে বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে।
সামরিক বাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন এবং ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসন থেকে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ফেনীতে তার ব্যক্তিগত বাসভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।