ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ০১:২১ পিএম
কুষ্টিয়া শহরে একটি ভাড়া বাসা থেকে মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত শিক্ষার্থীর নাম সামিয়া নিঝুম (২০)। তিনি পড়াশোনার জন্য কলেজসংলগ্ন এলাকায় একাই বসবাস করতেন।
রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুষ্টিয়া সদর থানার হাউজিং ই-ব্লক এলাকার একটি সাততলা ভবনের চারতলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, জানালার সঙ্গে দড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় নিঝুমের মরদেহ পাওয়া যায়।
নিহত সামিয়া নিঝুম পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার ছোট শালিখা এলাকার বাসিন্দা এবং মো. আব্দুস সালামের মেয়ে। তিনি কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
বাসার কেয়ারটেকার রিয়াজ উদ্দিন জানান, সন্ধ্যার দিকে নিঝুমের বাবা ফোন করে মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারার কথা জানান। পরে পাশের কক্ষে থাকা এক শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে নিঝুমের কক্ষে গিয়ে একাধিকবার ডাকাডাকি করা হলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে দরজা ভাঙার চেষ্টা করা হলে জানালার পাশে ঝুলন্ত অবস্থায় নিঝুমকে দেখা যায়। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
পাশের কক্ষে থাকা এক শিক্ষার্থী জানান, নিঝুম মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ওই বাসার কক্ষে উঠেছিলেন। ঘটনার সময় তারা নিজেরা ভেতরে প্রবেশ করতে না পেরে পুলিশের সহায়তা নেন। পরে পুলিশ দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম বলেন, নিঝুম ছিলেন মেধাবী ও ভদ্র ছাত্রী। তার এমবিবিএস কোর্স শেষ হতে আর এক বছর বাকি ছিল।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।