হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় দুই দফায় দেশের ১৯ লাখ ৫৩ হাজার ৮৪৩ জন শিশুকে টিকা দিয়েছে সরকার।
সোমবার থেকে তৃতীয় দফায় দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। আগামী চার সপ্তাহ (শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত) কেন্দ্রগুলাতে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা এ টিকা দেওয়া হবে। ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় টিকা প্রদান করা হবে।
হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার জরুরি ভিত্তিতে গত ৫ এপ্রিল প্রথম দফায় ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। এসব উপজেলায় ২১ লাখ ৮০ হাজার ১০৫ জন শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। চলমান এই কর্মসূচির আওতায় ৫ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত উপজেলাগুলোতে ১৪ লাখ ৮৭ হাজার ১৯২ জন শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা প্রদান করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বরিশাল বিভাগে ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৬৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৪৭৮ জন, ঢাকা বিভাগে ৬ লাখ ১৩৪ জন, খুলনা বিভাগে ৭৪ হাজার ৫৮৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১ লাখ ২৯ হাজার ৩৮৯ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৭৪৩ জন শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে দ্বিতীয় দফায় গত ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ গুরুত্বপূর্ণ ৪টি সিটি কর্পোরেশনে (ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ) একযোগে হাম-রুবেলার টিকাদান কার্যক্রম শুরু করে সরকার। সরকার এই চার সিটি কর্পোরেশনে ৯ লাখ ৭৬ হাজার ৮৩৮ জন শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
১২ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত চার সিটিতে ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৬৫১ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করর্পোরেশনে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৯০২ জন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে ১৬ হাজার ৪৪ জন এবং ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনে ১৬ হাজার ৮৯৫ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
সরকার সঠিক সময়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বাংলাদেশে হামের প্রকোপ কিছুটা কমেছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ২০ এপ্রিল সোমবার থেকে দেশব্যাপী টিকা কার্যক্রম শুরু করলে এটা আরও কমে আসবে। আশা করি, আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।
টিকার কোনো ঘাটতি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, সব ধরনের টিকার পর্যাপ্ত মজুত আছে। গ্রাম এলাকায় ও আমাদের হাতে যে পরিমাণ ভ্যাকসিন মজুত আছে, তা দিয়ে আগামী জুন মাস পর্যন্ত নির্বিঘ্নে আমরা ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারব।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হাম প্রতিরোধে টিকার কার্যকারিতা অনেক বেশি। সাধারণত ক্যাম্পেইন শুরুর দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রাদুর্ভাব কমতে দেখা যায়। ঠিকমতো টিকা কার্যক্রম পরিচালিত হলে প্রাদুর্ভাব থাকবে না, আশা করা যায়। মহামারি মোকাবিলায় সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান তারা।