জুন ১১, ২০২২, ০৫:২৯ পিএম
বস্তি এলাকার ৭২ শতাংশ মেয়েই গোসল নিয়ে নানা ধরণের ভয়ে থাকে বলে তথ্য দিয়েছে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের জরিপ। গোলা জায়গায় গোসল করা, ভেজা অবস্থায় ঘরে ফেরাসহ নানা ধরণের সমস্যার তথা উঠে এসেছে এ জরিপে।
শনিবার রাজধানীর পুরান পল্টন এলাকায় এক রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জরিপ প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। জরিপে মূলত নিম্ন আয়ের এলাকায় থাকা কিশোরী ও তরুণীদের গোসলখানার নিরাপত্তা নিয়ে গবেষণালব্ধ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
রাজধানীর ধলপুর, মালেক মেম্বার, আইজি গেট এবং ম্যাচ কলোনি বস্তিতে চলতি বছরের মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত জরিপ পরিচালনা করা হয়। এতে অংশ নেয় ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী ৪১৭ জন কিশোরী ও তরুণী।
জরিপের অন্তর্ভুক্ত চারটি স্থানের তথ্য বলছে, ৭২ শতাংশ কিশোরী-তরুণী উন্মুক্ত গোসলখানায় তাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকে। ওই এলাকার কেউবা আশপাশের উঁচু ভবন থেকে, কেউ উন্মুক্ত গোসলখানায় গোসলের দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে ভয়ে থাকে অনেক মেয়ে। এ ছাড়া উন্মুক্ত গোসলখানায় পুরুষ ও বয়স্ক নারীদের বকাঝকা, হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনাও ঘটে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই চার এলাকার ৯৯ শতাংশ গোসলখানাই উন্মুক্ত। ওই সব গোসলখানার মাত্র ১৫ শতাংশ মেয়েদের জন্য আলাদা। বাকিগুলো নারী-পুরুষকে একসঙ্গেই ব্যবহার করতে হয়। গোসলখানাগুলোতে ছাদ ও দেয়াল না থাকায় মেয়েদের কোনো গোপনীয়তা থাকে না। অনেক কিশোরী বয়স্ক নারীদের অশোভন মন্তব্যের শিকার হয়। গোসলের সময় পুরুষেরা থাকায় অস্বস্তিতে ভোগে তারা।
জরিপ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ওয়াশ স্পেশালিস্ট এস এম তারিকুজ্জামান। সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার প্রকল্প ব্যবস্থাপক মানিক কুমার সাহা বলেন, বাংলাদেশে পাঁচ হাজারের মতো বস্তি এলাকা রয়েছে। সেসব এলাকায় মেয়েদের একটি নিরাপদ গোসলখানার প্রয়োজনীয়তার কথা ভাবা হয় না। নীতিনির্ধারকদের কাছে সমস্যাটি তুলে ধরে স্থায়ী সমাধানের জন্য আলোচনাটি অব্যাহত থাকা জরুরি।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রচার ব্যবস্থাপক সেমন্তী মঞ্জরী। ধন্যবাদ জানান সংস্থার কেন্দ্রীয় ও উত্তরাঞ্চলের প্রধান আশিক বিল্লাহ।