করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশে শনিবার এক কোটি মানুষকে প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, আজ (শনিবার) সারাদেশের ১ কোটি মানুষকে করোনার প্রথম ডোজ টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর দ্বিতীয় ও বুস্টার ডোজের ওপর জোর দেওয়া হবে।
টিকা পেতে কোনো ধরনের নিবন্ধন কিংবা কাগজপত্র লাগবে না বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপপ্তর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত ভ্যাকসিন প্রয়োগ কর্মসূচির (ইপিআই) পরিচালক ও জাতীয় কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন পরিকল্পনার সদস্য শামসুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টিকা নেওয়ার আগ্রহ বজায় থাকলে দ্রুত লক্ষ্যপূরণে পৌঁছাতে পারব। শনিবার টিকার ডোজ দেওয়ার ব্যাপক আয়োজন থাকছে। দেশজুড়ে ২৮ হাজার কেন্দ্রে করোনার টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হবে। আশা করছি, ওই দিন পর্যন্ত দেশের ৭০ শতাংশ মানুষকে টিকা দেওয়ার টার্গেট পূরণ হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়, করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক দিনে এক কোটি করোনার টিকাদান কার্যক্রম। পরে দ্বিতীয় ও বুস্টার ডোজ প্রদান কার্যক্রমও জোরদার করা হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাতৃ, নবজাতক ও শিশু স্বাস্থ্য কর্মসূচির পরিচালক মো. শামসুল হক বলেন, ২৬ ফেব্রুয়ারির আগ পর্যন্ত প্রথম ডোজের টিকা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এদিন পর টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরপর দ্বিতীয় ও বুস্টার ডোজ চলবে।
জন্মনিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, তারাও নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে টিকা নিতে পারবেন। ২৮ হাজার বুথে টিকা দেওয়া হবে। এসব বুথে টিকা দেওয়ার কাজে নিযুক্ত থাকবেন স্থাস্থ্য বিভাগের কর্মীদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকেরাসহ মোট এক লাখ ৪২ হাজার জন।
দেশের প্রত্যেকটি ইউনিয়নে নির্ধারিত টিকাকেন্দ্রের বাইরেও পাঁচটি করে ভ্রাম্যমাণ দল থাকবে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের প্রতিটি অঞ্চলে ৩০ থেকে ৫০টি করে বুথে টিকা দেওয়া হবে। লোকজনকে টিকা নিতে উদ্বুদ্ধ করতে মাইকিং, গণবিজ্ঞপ্তিসহ বিশেষ প্রচার চালিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
প্রসঙ্গত, ২০২১ বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি দেশে করোনার গণটিকাদান শুরু হয়। করোনাভাইরাসের টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছেন ১০ কোটি নয় লাখ ১১ হাজারের বেশি মানুষ, যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশের মত।
তাদের মধ্যে সাত কোটি ১৪ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ দ্বিতীয় ডোজ এবং ২৬ লাখ ৯৪ হাজারের বেশি মানুষ তৃতীয় বা বুস্টার ডোজ পেয়েছেন।
এর মধ্যে গতবছরের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে ৭৬ লাখ ডোজের বেশি টিকা দেওয়া হয়েছিল এক দিনে।