রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে কোনোভাবেই থামছে না মৃত্যৃর মিছিল। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিনই এই মৃত্যু মিছিলে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন মরদেহ। মৃত্যুর পাশপাশি বেড়েই চলেছে করোনা রোগীর সংখ্যা। করোনা রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
মঙ্গলবার (১৫ জুন) গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিট ও নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে গত ২৪ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত ২৩ দিনে রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিট ও আইসিউতে মারা গেলেন ১৯৩ জন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামিম ইয়াজদানি বিষয়টি দ্য রিপোর্টকে নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার সকালে দ্য রিপোর্টকে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের করোনা ইউনিট ও আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ১২ জনের মধ্যে ৮ জন করোনা পজিটিভ ছিলেন। করোনা নেগেটিভ ছিলেন ১ জন। অন্য ৩ জন করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ছিলেন।’
তিনি বলেন,‘করোনায় মৃতদের মধ্যে রাজশাহী জেলার ৩ জন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ৭ জন, নাটোর জেলার ১ জন ও নওগাঁ জেলার ১ জন রয়েছেন। সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার (১৫জুন) সকাল ৮টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ২৪ ঘন্টায় করোনা ও এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন ৫৮ জন। মঙ্গলবার পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ৩২৫ জন করোনারোগী ভর্তি আছেন।’
রামেক হাসপাতালের এই পরিচালক আরও জানান গত ২৪ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত ২৩ দিনে রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিট ও আইসিউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।’
রামেক হাসপাতালের পরিচালক জানান, হাসপাতালে মোট ভর্তি ৩২৫ জনের মধ্যে রাজশাহীর ১৮৯জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৮২ জন, নাটোরের ১৭ জন,নওগাঁর ২৬ জন, পাবনার ৪ জন, কুষ্টিয়ার ৬ জন ও চুয়াডাঙ্গার ১জন রয়েছেন।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় চলছে সর্বাত্মক লকডাউন। নওগাঁ পৌরসভা ও নিয়ামতপুরে ৭ দিনের লকডাউন শেষে জেলাজুড়ে ১৫টি বিধিনিষেধ জারি করেছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও ভারত সীমান্তের সাপ্তাহিক হাটগুলোও বন্ধ রাখা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহীর সঙ্গে নওগাঁর যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। তারপরও কোনোভাবেই করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না।