করোনা সংক্রমণ রোধে পর্যাপ্ত টিকা হাতে না আসায় আপতত দেশব্যাপী গণটিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। সারাদেশে ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ টিকা হাতে এলেই আবারও গণটিকা কার্যক্রম শুরু হবে বলেও তিনি জানান।
রবিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠান শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
‘চীনের সঙ্গে টিকা পেতে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছি’ জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যৌথভাবে টিকা উৎপাদনের বিষয়ে আগামী সপ্তাহে চুক্তি হবে। রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের টিকা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ভারতের কাছে পাওনা আছে ২ কোটি ৩০ লাখ টিকা। টিকা পাওয়া সাপেক্ষে গণটিকা কার্যক্রম আবারও শুরু হবে।’
জাহিদ মালেক বলেন, আমরা ৫৪ লাখ টিকা পেয়েছি এই সপ্তাহে। মাসের শেষের সপ্তাহের মধ্যে আরও ৫০ লাখ টিকা আসবে। এর মধ্যে আমাদের স্বাভাবিক টিকা কার্যক্রম চলমান থাকবে।
দেশে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি কমতে শুরু করেছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সংক্রমণের হার এখন কমে ২০ শতাংশের মধ্যে চলে এসেছে। তবে সংক্রমণ ও মৃত্যু কিছু কমলেও আমরা সন্তুষ্ট নই, আমরা ৫ শতাংশের নিচে সংক্রমণ চাই।’
সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছিলেন, সিনোফার্ম থেকে সব মিলিয়ে সাত কোটি ৫০ লাখ ডোজ টিকা কেনা হচ্ছে। এর মধ্যে দেড় কোটি ডোজের দাম ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি ছয় কোটি টিকার বিষয়ে কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ মে প্রথমবার সিনোফার্মের তৈরি ৫ লাখ টিকা উপহার হিসেব বাংলাদেশে পাঠায় চীন। এরপর দ্বিতীয় দফায় গত ১৩ জুন আরও ছয় লাখ টিকা উপহার হিসেবে পাঠায়। সব মিলিয়ে ১১ লাখ টিকা বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে দিয়েছে চীন। আরও ১০ লাখ ডোজ টিকা বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে দেবে দেশটি।
এছাড়া, বিশ্বের সব মানুষের সংক্রামক রোগের প্রতিষেধক পাওয়া নিশ্চিত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃত্বে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনস(গ্যাভি) এবং কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনসের গড়া প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্সের আওতায় তিন চালানে সিনোফার্ম থেকে দেশে ৩৪ লাখ ৬১ হাজার ৮০১ ডোজ টিকা এসেছে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত চীন থেকে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৬১ হাজার ৮০১ ডোজ টিকা দেশে এসেছে।