রাজধানীতে হঠাৎ বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। মহাখালীর কলেরা হাসপাতালে কয়েক মিনিট পরপরই আসছেন রোগী। দৈনিক ভর্তি হচ্ছেন হাজারখানেক রোগী। রাজধানীর আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) ঢাকা কলেরা হাসপাতালে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছেন। প্রতি ঘণ্টায় ৫০-৬০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। সাত দিন ধরে গড়ে প্রতিদিন রোগী ভর্তি হচ্ছেন ১ হাজার ২০০ জন করে।
সরাসরি প্রতিবেদন দেখতে ক্লিক করুন
১৪ ঘন্টায় ৬৬৫ রোগী
শুক্রবার বিকাল তিনটা পর্যন্ত এ হাসপাতালে ৬৬৫ জন রোগী এসেছেন পেটের পীড়া নিয়ে। কিছুক্ষণ পরপরই অ্যাম্বুলেন্স, সিএনজি, ব্যক্তিগত গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে রোগীরা আসছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, হঠাৎ করে গরম চলে আসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কারণে শিক্ষার্থীদের বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার ও পানীয় গ্রহণ এবং অনিরাপদ পানির কারণে ডায়রিয়া রোগী বেড়ে গেছে।
অস্থায়ী ক্যাম্প করছে হাসপাতাল
রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালের মূল ভবনে জায়গা না থাকায় বাইরে তাবু টানিয়ে অস্থায়ীভাবে শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরেই চলছে এ অবস্থা। সেখানেও রোগীদের তিল ধারণের ঠাঁই নেই।
দুই বছরের সন্তান আবদুল্লাহকে নিয়ে আসা মা আকলিমা আক্তার জানান, গতকাল রাতে হঠাৎ করেই তার শিশু ছেলের ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। তারপর আজকে সকালে তিনি হাসপাতালে নিয়ে আসেন। ডাক্তার স্যালাইন দিয়েছেন। এখন কিছুটা ভালোর দিকে।
আরিফ নামের এক যুবক বলেন, আমি নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছি আমার মাকে নিয়ে। আমার মা দুইদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আম্মা বাহিরের খাবার খেয়েছিলেন এরপর থেকেই এই সমস্যা । তারপর হাসপাতালে নিয়া আসি।
অতিরিক্ত চাপে চিকিৎসকরা
আইসিডিডিআর,বির সহকারী বিজ্ঞানী ডা. শোয়েব বিন ইসলাম গণমাধ্যমে বলেন, প্রতি বছর গরমের মৌসুমে দৈনিক গড়ে সাড়ে সাতশ থেকে আটশ রোগী আসে তাদের এ হাসপাতালে। তবে গত কয়েকদিন ধরে তা ১২শ ছাড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, শনিরআখড়া, মোহাম্মদপুর এবং উত্তরা এলাকা থেকে বেশি রোগী আসছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই কলেরা আক্রান্ত। এবার আঠারো বছরের বেশি বয়সী রোগী বেশি।