ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বরিস জনসন। একই সঙ্গে ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির প্রধানের পদ থেকেও তিনি পদত্যাগ করেছেন।
আরও পড়তে পারেন: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বরিসের উত্তরসূরি লিজ ট্রাস!
বাংলাদেশ সময় আজ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। নতুন নেতা নির্বাচিত হওয়ার পরই তিনি ক্ষমতা ছেড়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন। মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জনসনের মন্ত্রীসভার ৫০ জন সদস্য পদত্যাগ করেছেন। গত বছর বরিস জনসনের সরকারের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ আনা হয়।
পদত্যাগপত্রের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দলের ইচ্ছায় নতুন একজন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে নতুন প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত করা হবে। পদত্যাগপত্রে ব্রেক্সিট চুক্তি বাস্তবায়ন, চলমান ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের মধ্যে ঐক্যমত্য তৈরি করাসহ বেশ কিছু বিষয়ে নিজের সফলতার দাবি করেন জনসন। তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে ভালো চাকুরিটাই তাকে ছাড়তে হচ্ছে। রাজনীতিতে কেউই অপরিহার্য নয় বলেও জানান তিনি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ১০নং ডাউনিং স্ট্রিটে পদত্যাগের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কথা বলেন।
২০১৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের সরে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভোটাভুটির পর থেকেই ব্রিটেনের রাজনীতিতে বিভক্তি দেখা দেয়। জনসনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য; জনসন কনজারভেটিভ পার্টির দাতাদের বেশি ঘনিষ্ট ছিলেন; তিনি সন্ত্রাসী এবং দুর্নীতির অভিযোগ থেকে সমর্থকদের সুরক্ষা দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব বিষয়ের সঙ্গে সুচারুভাবে তাল মিলিয়েই ৫৮ বছর বয়সী জনসন গত ৩ বছর ধরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি কনজারভেটিভ পার্টির একজন আইনপ্রণেতার সঙ্গে যৌন হয়রানিমূলক আচরণের বিষয়টি জনসন জানতেন। ঘটনাটি জানার পরও তিনি ওই হেনস্তাকারীকে সিনিয়র পদে অধিষ্ঠিত করেন। কনজারভেটিভ পার্টির সদস্য ডেপুটি চিফ হুইপ ক্রিস পিনচার পদত্যাগ করার পর থেকেই সংকট শুরু হতে থাকে। ক্রিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিলো; একটি ক্লাবে গিয়ে তিনি দুইজন ব্যক্তির ওপর হামলা করেন। যদিও এর আগেও তিনি এমন অনেক কর্মকাণ্ড করেছেন। এসব অভিযোগের পর সমালোচনা ঠেকাতে জনসন যে যুক্তিগুলো দাড়ঁ করিয়েছেন বা বিষয়গুলো কখন জেনেছেন-এসব বিষয়ে যে ব্যাখ্যা জনসন দিয়েছেন তা ক্রমেই তার সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা বাড়িয়েছে এবং তার পদত্যাগের আলোচনাটিকে সামনে নিয়ে আসে।