জীবনমানের অবনতি এবং নির্বাচনের দাবিতে গত শুক্রবার লিবিয়ার বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা পূর্বাঞ্চলীয় শহর তোবরুকে পার্লামেন্ট হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ ভবনে হামলা চালিয়েছেন এবং আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন। খবর আল আরাবিয়ার
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যম খবর আল আরাবিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সসময় শুক্রবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভকারীরা সংসদের ভেতর প্রবেশ করে সেখানে আগুন ধরিয়ে দেন।

বেশ কয়েক দিন ধরে লিবিয়ায় বিদ্যুৎ নেই। রাজনৈতিক রেষারেষির বিপরীতে বেশ কয়েকটি তেল বিষয়ক প্রতিষ্ঠান অচল হয়ে আছে। ফলে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর ক্ষোভ থেকে এমনটা করেছে বিক্ষোভকারীরা।
মিডিয়ায় দেখানো হয় পার্লামেন্ট ভবন থেকে ঘন কালো ধোয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে আকাশে উঠে যাচ্ছে। প্রতিবাদী জনতা টায়ারে অগ্নিসংযোগও করে। পার্লামেন্ট ভবনের কিছু অংশ পুড়ে গেছে। এদিন সাপ্তাহিক ছুটরে দিন থাকায় পার্লামেন্ট ছিল খালি।
শুক্রবার এ বিক্ষোভের আগে রাজধানী ত্রিপোললিসহ অন্য শহরগুলোতেও প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়। রাজধানী ত্রিপোলিতে কয়েক শত মানুষ জড়ো হয় কেন্দ্রীয় একটি স্কয়ারে। সেখানে তারা সশস্ত্র মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করে। বিদ্যুৎ সরবরাহে উন্নত ব্যবস্থা এবং খাদ্য, বিশেষ করে রুটির দাম কমানোর দাবি জানায় তারা।
তাবরুকের বিক্ষোভের ছবিতে দেখা গেছে একজন প্রতিবাদী বুলডোজার চালিয়ে পার্লামেন্টের একটি গেট ভেঙে দিচ্ছে। এর ফলে সহজেই বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনের ভিতরে প্রবেশ করছে।
একদল বিক্ষোভকারী সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি শাসনামলের সবুজ পতাকা দোলাতে থাকে। তারা বিভিন্ন সরকারি ডকুমেন্ট বাতাসে ছুড়ে মারে।
২০১১ সালে লিবিয়ার নেতা গাদ্দাফিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকে দেশটিতে শুরু হওয়া অস্থিরতা এখনো চলমান রয়েছে। ে২০১৪ সালে লিবিয়া পূর্ব ও পশ্চিম দুইভাগে বিভক্ত হয়ে গেলে ২০২০ সালে দেশটির একত্রীকরণে আবার কাজ শুরু হয়।
২০২০ সালে পূর্বনির্ধারিত নির্বাচন স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর পূর্ব অংশের সংসদ জানায়, আব্দুলহামিদ আল-দেবিবাহের অন্তর্বর্তীকালীন ঐক্য সরকারের সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে এবং তারা ফাতি বাসাগাকে তার স্থলে নিযুক্ত করেছে।
সূত্র: আল আরাবিয়া