মার্চ ১৯, ২০২৬, ০১:৩০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সীমান্তে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। সাম্প্রতিক সহিংসতায় ব্যাপক প্রাণহানির পর আন্তর্জাতিক মহলের আহ্বানে দুই দেশ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইসলামাবাদ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের উদ্যোগে ঈদের সময় লড়াই বন্ধ রাখতে উভয় দেশ সম্মতি দিয়েছে। বুধবার ইসলামাবাদ ও কাবুল পৃথক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ বেড়ে যায়। পাকিস্তানের অভিযোগ, তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালানো উগ্রবাদীদের আশ্রয় দিচ্ছে আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসন। যদিও কাবুল বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
সোমবার রাতে কাবুলে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্র লক্ষ্য করে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই ঘটনার পর সংঘাত থামাতে আন্তর্জাতিক মহল থেকে আলোচনার দাবি জোরালো হয়।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে বৃহস্পতিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সীমান্তের ওপার থেকে কোনো হামলা হলে তাৎক্ষণিকভাবে জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
অন্যদিকে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা তাদের দায়িত্ব। যে কোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
তালেবান প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি বিমান হামলায় কয়েক শতাধিক আফগান নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের অনেকের জানাজা ও দাফন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
কাবুলে দাফনের সময় বৃষ্টিভেজা পাহাড়ি এলাকায় গণকবরে সারি সারি কফিন সমাহিত করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দিন হাক্কানি। তিনি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, নিরপরাধ মানুষের ওপর এই আক্রমণের জবাব দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বহু মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্গম এলাকা ও তথ্যের ভিন্নতার কারণে নিহতের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি থেকে চলা এই সংঘাতে অন্তত ৭৬ জন আফগান নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং এক লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সংঘাত থামাতে বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতার চেষ্টা চললেও তা এখনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছায়নি। তবে রাশিয়া ও চীন উভয় পক্ষ চাইলে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনে সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।