মে ১৪, ২০২৪, ১২:১৯ পিএম
সম্পূর্ণ নতুন এক পদ্ধতিতে চিকিৎসা করে সফলতা পেয়েছেন ক্যান্সার আক্রান্ত এক অস্ট্রেলীয় চিকিৎসক। মস্তিষ্কের ক্যান্সার আক্রান্ত ওই চিকিৎসকের নাম রিচার্ড স্কোলিয়ার।
পরীক্ষামূলকভাবে নতুন এই চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্যান্সার মুক্ত আছেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এই চিকিৎসক। তিনি উল্লেখ করেছেন, “আবারও এমআরআই পরীক্ষায় দেখা গেছে নতুন করে টিউমারটি ফিরে আসেনি। আমি অত্যন্ত খুশি।”
গ্লায়োব্লাস্টোমার নামে ক্যান্সারের এক ধরনে আক্রান্ত হয়েছিলেন অধ্যাপক স্কোলিয়ার। ধরনটিতে আক্রান্ত রোগীদের বেশির ভাগই ১ বছরের কম সময় বেঁচে থাকেন।
কে এই স্কোলিয়ার?
চিকিৎসক স্কোলিয়ার একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন রোগতত্ত্ববিদ। ক্যান্সারের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চলতি বছর স্কোলিয়ার ও তার বন্ধু-সহকর্মী জর্জিনা লংকে অস্ট্রেলিয়া অব দ্য ইয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।
গত এক দশক ধরে মেলানোমা ইনস্টিটিউট অস্ট্রেলিয়ার সহ-পরিচালকরা ইমিউনোথেরাপি নিয়ে গবেষণা করছেন। এ-পদ্ধতিতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা (ইমিউন সিস্টেম) ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষকে আক্রমণ করা হয়। বিশ্বজুড়ে ক্যানসারের শেষ ধাপে থাকা রোগীদের মধ্যে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে উল্লেখজনক সাফল্য পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের অর্ধেক এখন নিরাময় পাচ্ছে। আগে এই হার ১০ শতাংশেরও কম ছিল।
স্কোলিয়ারের মস্তিষ্কের ক্যান্সার সারানোর চেষ্টায় এই পদ্ধতিই ব্যবহার করেছেন অধ্যাপক লংসহ চিকিৎসকদের একটি দল। অধ্যাপক স্কোলিয়ার হলেন মস্তিষ্কের ক্যান্সারে আক্রান্ত প্রথম রোগী, যার চিকিৎসায় এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে। মেলানোমা ইনস্টিটিউট অস্ট্রেলিয়ায় অধ্যাপক লং ও তার চিকিৎসক দল গবেষণা করে দেখেছে, কয়েকটি ওষুধের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে ইমিউনোথেরাপি দেওয়া হলে তা অপেক্ষাকৃত ভালো কাজ করে।
টিউমার অপসারণের জন্য কোনো অস্ত্রোপচারের আগে পদ্ধতিটি ব্যবহার করতে হয়। গত বছর স্কোলিয়ারকে অস্ত্রোপচার-পূর্ববর্তী এই থেরাপি দেওয়া হয়। এছাড়া স্কোলিয়ারই হলেন প্রথম রোগী, যাকে টিউমারের বৈশিষ্ট্যানুযায়ী বিশেষ ধরনের টিকা দেওয়া হয়েছে। এতে ওষুধের ক্যান্সার শনাক্তের ক্ষমতা বেড়েছে।
স্কোলিয়ারের চিকিৎসায় যে সাফল্য পাওয়া গেছে। এতে চিকিৎসাজগতে আশার সঞ্চার হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, লং ও স্কোলিয়ারের এই প্রচেষ্টা হয়তো প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী মস্তিষ্কের ক্যান্সারে আক্রান্ত প্রায় ৩ লাখ লোকের জন্য সহায়ক হবে।