জুন ২৭, ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জনে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, গত বুধবার সন্ধ্যায় রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে রাজধানী কারাকাসের কাছে উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অসংখ্য বহুতল ভবন ধসে পড়ে এবং বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার জানান, এখনও ৫০ হাজারের বেশি মানুষের খোঁজ মেলেনি। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের কারণে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলো জানিয়েছেন, উদ্ধার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে শুক্রবার রাত থেকে দুর্গত এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান চালালেও জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা দিন দিন কমে আসছে। চিলির একটি উদ্ধারকারী দলের প্রধান নাদিওমার পোলাঙ্কো বলেন, বেশিরভাগ ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। তাই এখন জীবিত উদ্ধারের চেয়ে মরদেহ উদ্ধারের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি সহায়তার ধীরগতিতে ক্ষোভ বাড়ছে দুর্গত এলাকাগুলোতে। অনেক জায়গায় স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবক ও স্বজনরা ভারী যন্ত্রপাতি ছাড়াই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের খোঁজ করছেন।
ভূমিকম্পে স্বজন হারানো মারজোসলি সালাজার জানান, তার ১৬ বছর বয়সী মেয়ে মারা গেছে। তবে পাঁচ মাস বয়সী শিশু সন্তান ও এক আত্মীয় এখনও নিখোঁজ।
পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজও জনরোষের মুখে পড়েন। উদ্ধারকাজে বিলম্বের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভকারীরা সরকারের সমালোচনা করেন।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, বর্তমানে অন্তত ১৭টি দেশের উদ্ধারকারী দল ভেনেজুয়েলায় কাজ করছে। এর মধ্যে স্পেন, সুইজারল্যান্ড, কলম্বিয়া, মেক্সিকো ও এল সালভাদরের দল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও বিশেষ অনুসন্ধান ও উদ্ধার ইউনিট এবং প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানী কুকুরসহ ২৫০ সদস্যের একটি দল পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলোর মতে, ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের আগেই খাদ্যসংকট, অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে ভেনেজুয়েলার মানবিক পরিস্থিতি সংকটাপন্ন ছিল। নতুন এই দুর্যোগ সেই সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে।