মার্চ ২০, ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, চলমান সংঘাতে ইরান বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং দেশটির নেতৃত্ব কাঠামো নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই সময় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে।
বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর তিন সপ্তাহ পর এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কার্যত ভেঙে পড়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, তেহরানের নেতৃত্বে বিভক্তি দেখা দিয়েছে এবং বর্তমানে কে কার্যত নিয়ন্ত্রণে আছেন, তা স্পষ্ট নয়।
তবে এ পরিস্থিতির মধ্যেই পাল্টা উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে জ্বালানি খাতে হামলার আশঙ্কা। কাতার, সৌদি আরব ও কুয়েতের বিভিন্ন তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলার খবর সামনে আসায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলারে পৌঁছায়, যদিও পরে কিছুটা কমে আসে।
কাতারের বৃহৎ গ্যাস স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। একই সময়ে সৌদি আরব ও কুয়েতেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ পরিস্থিতিতে লেবাননের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারাও জ্বালানি ও পানির মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন, এই সংঘাত বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি ও মানবিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের কিছু জ্বালানি স্থাপনায় হামলার বিষয়ে তিনি আগে থেকে অবগত ছিলেন না। তবে তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়েছেন।
এদিকে ইরান সতর্ক করে বলেছে, তাদের জ্বালানি অবকাঠামোয় আবার হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই সংঘাত ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত আকার নিচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।