ছবি: এপি
গত সপ্তাহে পরপর দুইটি বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলায় আজ (সোমবার) আবারও একটি শক্তিশালী আফটারশক আঘাত হানে।
ভেনেজুয়েলার ক্যারিবীয় উপকূলে কারাবালেদা থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার (১৭ মাইল) উত্তরে স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ১ মিনিটে এই আফটারশকটি অনুভূত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) অনুযায়ী এর মাত্রা ছিল ৪.৬। তবে কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থা এটি ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে রেকর্ড করেছে।
ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের নেতা হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, ভূমিকম্পের পর নতুন কোনো ক্ষয়ক্ষতির তাৎক্ষণিক খবর পাওয়া যায়নি। তবে এতে রাজধানী কারাকাসের মানুষ আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসে।
কারাকাসের চাকাও এলাকার বাসিন্দা ৫১ বছর বয়সী কনসেপসিওন হার্নান্দেজ ভবন থেকে বের হয়ে এসে বলেন, আমরা আবারও রাস্তায় নেমে এসেছি। জানি না কবে সত্যিকারের শান্তি পাব।
এই কম্পনটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা বন্দরের শহরেও অনুভূত হয়, যেখানে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্ধার দলগুলো গত পাঁচ দিন ধরে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছে।
সরকার জানিয়েছে, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ১,৪৫০ জন নিহত হয়েছেন। তবে সরকারের উদ্ধার কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে, কারণ অনেকেই মনে করছেন সরকারি তৎপরতার চেয়ে সাধারণ মানুষের উদ্যোগেই বেশি উদ্ধার কাজ চলছে। হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ।
যত সময় গড়াচ্ছে, জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে। তবুও উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে কিছু জীবিত মানুষকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন, যা বিপর্যস্ত পরিবারগুলোর জন্য সামান্য আশার আলো। সাধারণভাবে বড় ধরনের দুর্যোগের পর প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়, যদিও পর্যাপ্ত খাবার ও পানি থাকলে মানুষ আরও কিছুদিন বেঁচে থাকতে পারে।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২,৬০০-এর বেশি উদ্ধারকর্মী, প্রশিক্ষিত কুকুর ও ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে এসে উদ্ধার কাজে যোগ দিয়েছেন।
সূত্র: এপি