ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি জোট প্রার্থী জেবা আমিনা খানের মনোনয়ন বৈধতার বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করেছে নির্বাচন কমিশন।
সোমবার (২৬ এপ্রিল) নির্বাচন কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে, বুধবার (২২ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী এবং জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সহ-সভাপতি জেবা আমিনা খানের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব, হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপন এবং একাধিক ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়।
অভিযোগ করেন ঢাকার বনানীর বাসিন্দা নাদিম মাহমুদ ও মাসুদ মৃধা। এএর মধ্যে মাসুদ মৃধার পক্ষে কমিশনে অভিযোগ দাখিল করে রিসিভ কপি সংগ্রহ করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হোসনে আরা।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা-২ অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, জেবা আমিনা খান বাংলাদেশের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। অভিযোগকারীদের মতে, সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে কেউ সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা হারান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রার্থী তার নির্বাচনী হলফনামায় স্থাবর সম্পদের পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করেননি। অভিযোগকারীদের দাবি অনুযায়ী, রাজধানীর গুলশান এলাকায় ১০৮ নম্বর রোডের একটি প্লটে তার নামে মোট সাতটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি ফ্ল্যাটের হোল্ডিং ট্যাক্স দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া রয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৩২ লাখ টাকার বেশি।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, এসব সম্পদের তথ্য হলফনামায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি কোম্পানির রেকর্ড উল্লেখ করা হয়েছে, জেবা আমিনা খানকে পরিচালক হিসেবে দেখানো হয়। কোম্পানিটি পরবর্তীতে বিলুপ্ত হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। তার জাতীয়তা, বসবাস এবং ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জেবা আমিনা খানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বাইগ্যামি, জালিয়াতি, পারিবারিক বিরোধ, সন্তানের অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত মামলা এবং সশস্ত্র হামলার অভিযোগ। তবে এসব মামলার কোনোটিরই চূড়ান্ত নিষ্পত্তি বা রায়ের বিষয়ে অভিযোগপত্রে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
অভিযোগকারীরা নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে সে সময় সাংবাদিকদের অভিযোগকারী মাসুদ মৃধার আইনজীবী বলেন, `আমার মক্কেলের কথা অনুযায়ী লিখিত অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছি। নির্বাচন কমিশন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।`
উল্লেখ্য, জেবা আমিনা খান ২০১৮ সালে বিএনপির মনোনয়নে ঝালকাঠি-২ আসনে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।