কিং অব পপ’ নামেই দুনিয়াজুড়ে পরিচিত তার। তাকে বলা হয় তারকাদের তারকা। মাত্র ৫০ বছরের জীবন। কিন্তু এই স্বল্প সময়েও তিনি রেখে গেছেন অবিশ্বাস্য সাফল্যগাঁথা। যা পৌরাণিক রূপকথাকেও হার মানায়। বিশ্বের আনাচে-কানাচে রয়েছে তার অগণন শ্রোতা ও ভক্ত-অনুরাগী। আজ ২৫ জুন সেই পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের চলে যাওয়ার দিন। ২০০৯ সালের এই দিনেই চিরতরে স্তব্ধ হয়ে যায় তার কণ্ঠ।
শুধু সাধারণ দর্শক নয়, আজ তার মৃত্যুর দিনে মাইকেল জ্যাকসনকে স্মরণ করছে বিশ্বের জনপ্রিয় অভিনয় শিল্পী, কণ্ঠ শিল্পী থেকে শুরু করে ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও বিজনেস আইকনরাও। আজ ১২ বছর পরও নেট দুনিয়ায় ট্রেন্ড হচ্ছেন মাইকেল জ্যাকসন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানায় ১৯৫৮ সালের ২৯ আগস্ট জন্ম নেন পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসন। আজ তার ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৯ সালের এই দিনে মারা যান পপ সঙ্গীতের এই 'লিজেন্ড'।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এমন এক সময় জন্ম মাইকেল জ্যাকসনের যখন বর্ণ বৈষম্য ছিল প্রকট। বর্ণ বৈষম্যকে একেবারে সামনে থেকে দেখে বেড়ে উঠেছেন তিনি। এমন এক সমাজে বড় হয়েও বর্ণ-শ্রেণী নির্বিশেষে তিনি অর্জন করেন জনপ্রিয়তা।
আশির দশকে জনপ্রিয় অ্যালবাম ‘বিলি জিন’ ও তার পরে ‘থ্রিলার’ মাইকেল জ্যাকসনকে গোটা বিশ্বে অনন্য রূপে তুলে ধরে। তখনকার দিনে প্রায় ৫ কোটি ডলার খরচ করে মাত্র ১৪ মিনিটের ‘থ্রিলার’ ভিডিও বানিয়েছিলেন মাইকেল।
মানুষ বিস্মিত হয়ে শুনেছেন তার গান, দেখেছেন তার নৃত্য আর ভেবেছেন এই অতিমানব সম্পর্কে। পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সবচেয়ে বেশি বিক্রিত এলবামের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে তার এলবামগুলো।
মাইকেল জ্যাকসন সংক্ষেপে 'এমজে' হিসেবে পরিচিতি। পরিবারের ৮ ভাই-বোনের সঙ্গে বেড়ে ওঠা মাইকেলের। মাত্র ৫ বছর বয়সে পেশাদার সঙ্গীত শিল্পী হিসাবে 'জ্যাকসন ফাইভ' নামের সঙ্গীত গোষ্ঠীর সদস্য হিসাবে গান গাইতে শুরু করেন। মাইকেল একক শিল্পী হিসাবে গান গাইতে শুরু করেন ১৯৭১ সালে। মাইকেলের গাওয়া ৫টি সঙ্গীত অ্যালবাম বিশ্বের সর্বাধিক বিক্রিত রেকর্ডের মধ্যে রয়েছে- অফ দ্য ওয়াল (১৯৭৯), থ্রিলার (১৯৮২), ব্যাড (১৯৮৭), ডেঞ্জারাস (১৯৯১) এবং হিস্টরি (১৯৯৫)।
জ্যাকসন যখন গান শুরু করেন তখন বর্ণবাদের জাঁতায় পিষ্ট হচ্ছিলো গোটা মার্কিন সমাজ৷ মাইকেল জ্যাকসনই প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গায়ক যিনি এমটিভিতে শো করেন৷ জীবনের কোন বাধাই তাঁকে আটকে রাখতে পারেনি৷ বাস্কেটবল জগতের সর্বকালের সেরা তারকা হিসেবে পরিচিত ম্যাজিক জনসন বলেন, আমি ধন্যবাদ দিতে চাই কারণ মাইকেল আফ্রিকান আমেরিকানদের জন্য অনেক সুযোগের দরজা খুলে দিয়েছেন৷ তিনি আমাদের সকলের জন্য সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন৷
১৫টি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জিতেছিলেন মাইকেল। তাঁর লাখো ক্যাসেট আর সিডি বিক্রি হয়েছে। নাচে তার নতুন সংযোজন 'মুন ওয়াক' সে সময় বিশ্বে আলোড়ন তোলে। আজও বিষয়টি দারুণ জনপ্রিয়।
ব্যক্তিজীবনে একাধিক স্ক্যান্ডালের মুখোমুখি হলেও মাইকেল সবসময় বিশ্বকে দেখেছেন তাঁর হৃদয় দিয়ে৷ গান লিখে গেছেন সকলকে ঐক্যবদ্ধ করতে, পৃথিবীকে দুর্যোগের হাত থেকে বাঁচাতে৷ শুধু গান লিখে নয়, নিজের অর্জিত অর্থও মাইকেল জ্যাকসন দান করেছেন মানুষের কল্যাণে৷ কেবল ব্যক্তিগত ভাবে জ্যাকসন দান করেছেন ৫০০ মিলিয়ন ডলার৷
কোটি কোটি ভক্তের হৃদয় পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর বারো বছর পরেও তার জনপ্রিয়তা ও মর্যাদার স্থান এখনও অটুট।
মাইকেল জ্যাকসনের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান টেলিভিশন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবীর ৩০০ কোটিরও বেশি মানুষ দেখেছেন যা এই গ্রহে সর্বোচ্চ রেকর্ড। তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য পৃথিবীর সকল অঞ্চল থেকে তার ভক্ত ও সাধারণ মানুষ গুগল এ সার্চ করা শুরু করে। 'Michael Jackson' শব্দটি এত বেশি (মিলিয়ন মিলিয়ন) ইনপুট হবার কারণে তারা ভেবেই বসে 'ডি-ডোস ভাইরাস'-এ আক্রান্ত হয়েছে তাদের সার্চ ইঞ্জিন। ফলে প্রায় ৩০ মিনিট বন্ধ থাকে গুগল সার্চ ইঞ্জিন। উইকিপিডিয়াতে ১ ঘণ্টার মধ্যে ১২ লাখেরও বেশি মানুষ মাইকেলের বায়োগ্রাফি দেখে। ফলে সার্ভার ক্রাশ হয়ে বন্ধে হয়ে যায় এই সার্ভিস। পরবর্তীতে উইকিপিডিয়া কর্তৃপক্ষ জানায়, ইতিহাসে এরকম ঘটনা এই প্রথম ঘটেছে তাদের সঙ্গে। একইরকম ভাবে টুইটার-ও ক্রাশ হয় যেখানে মোট টুইটের ১৫ % মেনশন করা হচ্ছিল মাইকেল (প্রতি মিনিটে ৫০০০-এর বেশি টুইট)। মাইকেল জ্যাকসন শুধু গান-গাওয়া তারকা ছিলেন না; তিনি ছিলেন একাধারে গীতিকার, নৃত্যশিল্পী ও অভিনেতা। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি বদলে দিয়েছিলেন সংগীত বিশ্ব।।