ডিসেম্বর ২৩, ২০২২, ০১:৩৬ এএম
গোল্ডেন গ্লোব মনোনয়নে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশী চলচ্চিত্র সমালোচক, চিত্র নাট্যকার সাদিয়া খালিদ রীতি। প্রথমবার এমন সুযোগ পেয়ে গর্বিত তিনি। এই ভোটিংয়ের মাধ্যমেই নির্বাচিত হবে গোল্ডেন গ্লোব জয়ীদের তালিকা। সাদিয়া গণমাধ্যমকে বলেছেন, এক বছর আগেও হলিউডের চলচ্চিত্র সমালোচক, চলচ্চিত্র বিশ্লেষকসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের মানুষের ভোটে নির্বাচিত হতো গোল্ডেন গ্লোব জয়ীরা। এবার সেখানে বাংলাদেশি হিসেবে গর্বের ব্যাপার আমরা বিশ্ব সিনেমাকে কীভাবে দেখি, সেই মতামত দিতে পারছি। এটা অনেক বড় সম্মানের।
জানা গেছে, প্রতিবার শুধু হলিউড থেকে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। এর বাইরে বিশ্বের অন্য দেশ থেকে ভোটিংয়ের সুযোগ ছিল না। চলতি বছর থেকে সারা বিশ্ব থেকে ভোটিংয়ের জন্য ১০৩ জনকে বাছাই করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এবার ভোটার ২০০ জন। সেই তালিকায় জায়গা পেয়ে সাদিয়া উচ্ছ্বসিত। প্রথমবারের মতো ভোট দিয়ে তিনি বলেছেন, সব মিলিয়ে আমাদের অনেক সিনেমা দেখতে হয়েছে। ৩৫০টি ইংরেজি ভাষার সিনেমা। ১১২টি আন্তর্জাতিক সিনেমা বা ফরেন ফিল্ম দেখতে হয়েছে। এখানে পছন্দের সিনেমাকে ভোট দেওয়াটা ছিল অন্য রকম অভিজ্ঞতা। পরে নমিনেশন পাওয়া ছবিগুলোর মধ্যে দেখলাম, আমার ভোট দেওয়া সিংহভাগ সিনেমা জায়গা করে নিয়েছে!
১০ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হয় গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারের মনোনয়ন তালিকা।
এখন মনোনয়ন তালিকা থাকা সিনেমাগুলোর মধ্যে থেকে সেরা সিনেমাকে ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাদিয়া। শেষবারের মতো আবার মনোনয়ন পাওয়া কাজগুলো দেখে নিচ্ছেন। সাদিয়া বলেন, আগামী জানুয়ারি প্রথম সপ্তাহ ভোটার হিসেবে আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং। সেই সময় চূড়ান্ত ভোটিং শুরু হবে। আমাদের ২০০ ভোটের মাধ্যমেই নির্বাচিত হবে সেরা সিনেমা, সেরা অভিনেত্রীসহ পুরো বিজয়ীর তালিকা। নিষ্ঠা ও সততার সাথে যেন কাজ চালিয়ে যেতে পারি, সেই চেষ্টা করছি।
সাদিয়া গণমাধ্যমকে জানান, তিনি ২০১৯ সালে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফিল্ম ক্রিটিকসের (ফিপ্রেসকি) জুরি সদস্য হিসেবে কান চলচ্চিত্র উৎসবেও যোগদান করেছিলেন। তিনিই প্রথম বাংলাদেশি নারী, যিনি এই সম্মান অর্জন করেছেন। একই বছর ভারতের কেরালার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব এবং এর আগে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের জন্য ফিপ্রেসকি জুরিও নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ ছাড়া ইতালির রিলিজিয়ন টুডে ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, ভারতের শিলিগুড়ির ইন্টারন্যাশনাল শর্ট অ্যান্ড ডকুমেন্টারি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, নেপালের হিউম্যান রাইটস ফেস্টিভ্যাল, রাশিয়ার কাজান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, ইংল্যান্ডের রেইনবো ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এবং আরও বেশ কিছু আন্তর্জাতিক উৎসবের জুরিবোর্ডে কাজ করেছেন।
সাদিয়া ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, লস অ্যাঞ্জেলসে (ইউসিএলএ) চিত্রনাট্য নিয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং তিনি হলিউডের বেশ কয়েকটি প্রযোজনা সংস্থায়ও কাজ করেছেন।
সাদিয়া কিছু ফিল্ম, শর্ট ফিল্ম, সিরিজের গল্প ও চিত্রনাট্য লিখছেন। এ ছাড়া জুরি হিসেবে বিশ্বের বড় বড় চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তাঁর ভাষ্য, ‘আমি চাই, বিদেশের উৎসব ও পুরস্কারপ্রাপ্তিতে আমাদের নিয়মিত অংশগ্রহণ যেন বজায় থাকে। সেই জন্য আন্তর্জাতিক মানের লেখা চালিয়ে যেতে চাই।’
গোল্ডেন গ্লোবের চূড়ান্ত আসর বসবে ২০২৩ সালের ১০ জানুয়ারি। সেই সময় অন্য একটি দেশে থাকায় চূড়ান্ত আসরে তিনি অংশ নিতে পারবেন না।
প্রসঙ্গত, গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার (ইংরেজি ভাষা: Golden Globe Awards) দেশী-বিদেশী চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রোগ্রামের জন্য প্রদান করা হয়। এই মার্কিন পুরস্কারটি প্রতি বছর আনুষ্ঠানিক ডিনারের মাধ্যমে প্রদান করা হয়। সেই ১৯৪৪ সাল থেকে হলিউড ফরেন প্রেস অ্যাসোসিয়েশন পুরস্কারটির আয়োজন করে আসছে। আমেরিকায় একাডেমি পুরস্কার ও গ্র্যামি পুরস্কারের পরই সবচেয়ে বেশি দেখা হয় গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। ব্রিটেনের বাফটা অ্যাওয়ার্ডকে এই পুরস্কারের সমমানের হিসেবে গণ্য করা হয়।