জুলাই ১৪, ২০২৩, ১০:১১ পিএম
তাওহিদ হৃদয় ৩২ বলে ৪৭ রান করেন ছবি : বিসিবি
শেষ ওভারের নাটকীয়তা শেষে জয়ী দলের নাম বাংলাদেশ। করিম জান্নাত হ্যাটট্রিক করেন। শেষ ওভারে ২ বলে ২ রান দরকার ছিল। শরিফুল ৪ মেরে দলকে জয় পাইয়ে দেন।
২ ম্যাচের সিরিজ। প্রথমটি জিতে এগিয়ে গেল সাকিব আল হাসানরা। পরের ম্যাচ ১৬ জুলাই এই সিলেটে অনুষ্ঠিত হবে।
১৫৫ রানের টার্গেট ছিল। বাংলাদেশ ১৯.৫ ওভারে জয়ের বন্দরে নোঙর করে (১৫৭/৮)। ৩২ বলে ৪৭ রান করে ম্যাচ সেরা তাওহিদ হৃদয়।
শামীম পাটোয়ারি ও তাওহিদ হৃদয় ৭৩ রানের জুটি উপহার দেন। আর এই জুটি জয়ের দিকে নিয়ে যায় বাংলাদেশকে। শেষ ওভারে বল করতে আসেন করিম জান্নাত। শেষ ওভারে ৬ রান দরকার। প্রথম বলে ৪ মেরে দেন মিরাজ। এরপর পরপর ৩ বলে জান্নাত আউট করেন মিরাজ, তাসকিন ও নাসুমকে। ২ বলে ২ রান দরকার ছিল। শরিফুল এসে ৪ মেরে দেন। বাংলাদেশ স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ে।
এর আগে সাকিব ১৯, শান্ত ১৪ ও লিটন ১৮ রানে আউট হন। জান্নাত ৩ উইকেট নিয়েছেন। আর সেটাও শেষ ওভারে।
১৫৫ রানের টার্গেটে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। আফগানিস্তান পেসার ফজলহক ফারুকির বলে বোল্ড হন ওপেনার রনি তালুকদার। দ্বিতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে রানের চাকা ঘুড়াতে শুরু করেন আরেক ওপেনার লিটন দাস। ৫ ওভার শেষে ৩০ রান পেয়ে যায় বাংলাদেশ।
পাওয়ার প্লে’র শেষ ওভারের প্রথম বলে লিটন-শান্তর জুটি ভাঙ্গেন আফগান স্পিনার মুজিব। সুইপ করতে গিয়ে মিস টাইমিং করলে বল শান্তর বাঁ-হাতে কনুইতে লেগে স্টাম্পে আঘাত হানে। ১টি ছক্কায় ১২ বলে ১৪ রান করেন শান্ত।
পরের ওভারে ওমরজাইর বলে উইকেট ছেড়ে খেলে পুল শটে আকাশে বল তুলে রশিদকে ক্যাচ দেন লিটন। ২টি চারে ১৯ বলে ১৮ রান করে লিটন আউট হলে দলীয় ৩৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
এ অবস্থায় জুটি বাঁধেন অধিনায়ক সাকিব ও তাওহিদ হৃদয়। জুটির শুরুতে বৃষ্টিতে কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। খেলার শুরুর পর ব্যাট হাতে চড়াও হবার চেষ্টা করেন সাকিব। দুই ওভার মিলিয়ে ৩টি চারও মারেন তিনি। কিন্তু ১১তম ওভারে পেসার ফরিদের প্রথম বলে ডিপ পয়েন্টে করিমকে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ৩টি চারে ১৯ রান করা সাকিব।
৬৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। নতুন ব্যাটার শামিম হোসেনকে নিয়ে পাল্টা আক্রমন করেন হৃদয়। ওমরজাইর করা ১৩তম ওভারে ২১ রান তুলেন হৃদয়-শামিম। ঐ ওভারেই তিন অংকে পা রাখে বাংলাদেশ। ১৬তম ওভারে মুজিবের বলে নাজিবুল্লাহর হাতে ব্যক্তিগত ২৪ রানে জীবন পান শামিম।
ফারুকির করা ১৭তম ওভারে ১৬ রান তুলে টাইগারদের জয়ের পথে নিয়ে আসেন হৃদয়-শামিম জুটি। শেষ ৩ ওভারে ১৯ রানের সমীকরণে নামিয়ে আনেন তারা।
১৮তম ওভারে শামিমকে শিকার করে আফগানিস্তানকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন রশিদ। ৪টি চারে ২৫ বলে ৩৩ রান করেন শামিম। জুটিতে ৪৩ বলে ৭৩ রান যোগ করেন হৃদয় ও শামিম।
শামিম যখন ফিরেন তখন জয় থেকে ১৮ রান দূরে বাংলাদেশ। ষষ্ঠ উইকেটে ১২ বলে ১৬ রান তুলে ম্যাচ হাতে মুঠোয় আনেন হৃদয় ও মিরাজ। শেষ ওভারে ৬ রানের প্রয়োজনে প্রথম বলে চার মারেন মিরাজ। জয়ের সমীকরন ২ রানে নেমে আসে। পরের তিন বলে মিরাজ-তাসকিন ও নাসুমকে শিকার করে হ্যাট্টিক করেন করেন জানাত। টি-টোয়েন্টি ৫০তম হ্যাটট্টিক এটি।