ছবি: সংগৃহীত
বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের পক্ষ থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। নাট্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁর কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
আজ (মঙ্গলবার) সকালে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ, নাট্যব্যক্তিত্ব ম. হামিদসহ শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
প্রথম জানাজা শেষে বেলা ১১টার দিকে বিটিভি প্রাঙ্গণ থেকে তাঁর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়। সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ রাখা হয়।
এ সময় নাট্যকার রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, তারিক আনাম খানসহ নাট্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়েও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন এতে অংশ নেয়। এছাড়া প্রাচ্যনাট, বটতলা, দূরন্ত স্টেশনসহ একাধিক সাংস্কৃতিক সংগঠনও শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে স্মৃতিচারণ পর্বে নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, চিত্রশিল্পী আনোয়ার হোসেন, কেরামত মওলাসহ অনেকে মুস্তাফা মনোয়ারের দীর্ঘ কর্মজীবন, শিল্পভাবনা এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মী গড়ে তোলায় তাঁর অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন বহুমাত্রিক সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব। তাঁর শিল্পকর্ম, চিন্তা ও দর্শন বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির ইতিহাসে দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ রাখা হয়। এরপর দ্বিতীয় জানাজার জন্য মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে। জানাজা শেষে তাঁর প্রিয় কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে নেওয়া হবে। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা শেষে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিকেলে বনানী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভোগার পর সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন দেশের এই সব্যসাচী শিল্পী।