পাগলা মসজিদের ১৩ দানবাক্সে মিলল ৪৩ বস্তা টাকা

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুন ২৭, ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম

পাগলা মসজিদের ১৩ দানবাক্সে মিলল ৪৩ বস্তা টাকা

ছয় মাস পর খোলা দানবাক্সের টাকা গণনায় পাঁচ শতাধিক মানুষ।

দীর্ঘ ছয় মাস পর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খোলা হয়েছে। এবার দানবাক্সগুলো থেকে ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। শনিবার সকাল থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে এসব টাকা গণনার কাজ চলছে।

সকাল ৭টার দিকে জেলা প্রশাসন ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির তত্ত্বাবধানে দানবাক্স খোলার কার্যক্রম শুরু হয়।

টাকা গণনায় অংশ নিয়েছেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য, মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জামিয়া ইমদাদিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি।

সাধারণত প্রতি তিন মাস পর দানবাক্স খোলা হলেও এবার রমজান ও জাতীয় নির্বাচনের কারণে ছয় মাস পর দানবাক্স খোলা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন জানান, সর্বশেষ গত ২৭ ডিসেম্বর দানবাক্স খোলা হয়েছিল। তখন পাওয়া গিয়েছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। সেই অর্থ রূপালী ব্যাংকে মসজিদের হিসাবে জমা করা হয়। এছাড়া পাওয়া সোনা, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা জেলা ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে পাগলা মসজিদের তহবিলে ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৩৫২ টাকা জমা রয়েছে। পাশাপাশি অনলাইনে দান গ্রহণের জন্য চালু করা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮২ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। এ জন্য অতিরিক্ত জমি কেনা হয়েছে এবং নতুন নকশা তৈরির কাজও চলমান রয়েছে। মুসল্লিদের সুবিধার্থে মসজিদের বাইরে গণশৌচাগার নির্মাণের কাজও চলছে।

মসজিদের তহবিল থেকে এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীদের ব্যয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ বিল, মসজিদের উন্নয়ন এবং দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সহায়তায় অর্থ ব্যয় করা হয়।

দানবাক্স খোলার পুরো কার্যক্রমে নিরাপত্তা নিশ্চিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

Link copied!