যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম

যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

ছবি: দ্য রিপোর্ট ডট লাইভ

১৪ বছর আগে রাজধানীর কামরাঙ্গীচরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সায়েদ আহমেদ নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ রোববার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মশিউর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে আসামিকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে তার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নিলাম করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে প্রদানের নির্দেশ দেন আদালত। বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এরশাদ আলম জর্জ।

শুনানির সময় আসামি পক্ষের আইনজীবী আমিনুল গনি টিটু রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জেরা করে দাবি করেন, ভুক্তভোগীর মৃত্যু ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগজনিত কারণে হয়েছে এবং আসামি যৌতুকের কারণে তাকে হত্যা করেননি; বরং মামলাটি হয়রানিমূলক।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১০ সালে রেহানা বেগমের সঙ্গে সায়েদ আহমেদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠে। ২০১২ সালের ২৯ জুন রেহানার মা তাকে মৃত অবস্থায় পান। ওই সময় আসামিপক্ষ মৃত্যুর কারণ হিসেবে স্ট্রোকের কথা বলে দ্রুত আজিমপুর গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন করে।

পরে ২০১২ সালের ৩ অক্টোবর কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ না করায় বাদী আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালতের নির্দেশে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করা হলে হত্যার প্রমাণ পাওয়া যায় বলে জানা যায়।

তদন্তে সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক লুৎফর রহমান আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ১১(ক) ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ১১ জন সাক্ষী উপস্থাপন করে।

​শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, যৌতুকের দাবিতে এই হত্যাকাণ্ড সুনিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা মূলে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।

Link copied!