জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ১১:৩১ এএম
বিএনপি সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া | ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের পার্লামেন্টের উভয় কক্ষ—লোকসভা ও রাজ্যসভায় আনুষ্ঠানিক শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) ভারতীয় পার্লামেন্টের অধিবেশনে পৃথকভাবে এই শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানায়, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণন খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকবার্তা পাঠ করেন।
লোকসভার অধিবেশনে শোকবার্তা পাঠকালে স্পিকার ওম বিড়লা বলেন, ভারত–বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে খালেদা জিয়ার ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের একজন সাবেক সরকার প্রধানের প্রতি ভারতের পার্লামেন্টের পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা জানান।
অন্যদিকে রাজ্যসভার অধিবেশনে চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণন শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এ সময় উপস্থিত সদস্যরা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করে প্রয়াত নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালনকালে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরেন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি আরও জানান, সেক্রেটারি জেনারেলের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার পরিবারের কাছে ভারতের পার্লামেন্টের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক শোক ও সমবেদনার বার্তা পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর পর বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো গভীর শোক প্রকাশ করে আসছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের পার্লামেন্টে এই শোক প্রস্তাব গ্রহণ বর্তমান ভারত–বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ। এটি শুধু একজন শীর্ষ নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা নয়, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি ভারতের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির প্রতিফলন।
অধিবেশন শেষে ভারতের পার্লামেন্টের রেকর্ডবুকেও শোক প্রস্তাবটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার প্রয়াণে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে, ভারতের এই উদ্যোগ তাকে আরও মর্যাদাপূর্ণ করেছে।