ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। সংঘাতের জেরে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) চলতি বছর সুদের হার আরও বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত মূল্যবান ধাতুটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমেছে। খবর রয়টার্স।
এর প্রভাবে সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসার যে স্বস্তি তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।
আজ (বৃহস্পতিবার) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৪ ডলার ৬০ সেন্টে নেমে আসে। একই সময়ে আগামী আগস্টে সরবরাহের জন্য মার্কিন সোনার ফিউচার চুক্তির দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৯ ডলার ৫০ সেন্টে দাঁড়ায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জুন মাসের মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রভাব এখনো প্রতিফলিত হয়নি। কারণ গত মাসে দুই দেশের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি কার্যত ভেস্তে গেছে।
চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ১১ শতাংশ বেড়েছে। জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। পাশাপাশি এর ফলে সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে রাখার সম্ভাবনাও বেড়েছে।
সাধারণত মূল্যস্ফীতি বাড়লে সোনার চাহিদা ও দাম বাড়তে দেখা যায়। তবে সুদের হার বেশি থাকলে বন্ডসহ অন্যান্য বিনিয়োগ খাত তুলনামূলক লাভজনক হয়ে ওঠে, ফলে সোনার আকর্ষণ কমে যায়।
সংঘাত শুরুর আগে জ্বালানি তেলের দাম কম থাকায় জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা ও উৎপাদক পর্যায়ের মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি বাজারের আগের হিসাব-নিকাশ বদলে দিয়েছে।
আর্থিক বাজার এখন আর নিশ্চিত নয় যে ফেড এ বছর সুদের হার বাড়ানো থেকে বিরত থাকবে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা এখনো আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার বাড়ার ৭৩ শতাংশ সম্ভাবনা ধরে নিয়ে বাজারে লেনদেন করছেন।
ফেড গভর্নর লিসা কুক বুধবার জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে সুদের হার বাড়ানোর জন্য তিনি ‘পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত’। ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশ-ও মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেননি।
সোনার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট সিলভার বা রুপার দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৬ ডলার ৭৮ সেন্টে নেমেছে। এ ছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৫২ ডলার ৫০ সেন্ট এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৯৬ ডলার ২৯ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।
দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৬০৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ৮৫৮ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।