জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দিয়েছে জ্বালানি বিভাগ, যাতে দেশীয় উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ও আগাম কর অব্যাহতি প্রদান এবং এলপিজি আমদানিতে ভ্যাট কমানোর বিষয়টি নেওয়া হয়।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশে এলপি গ্যাসের মোট চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশই বেসরকারি কোম্পানির মাধ্যমে আমদানি করা হয়। এই গ্যাসের বড় একটি অংশ শিল্পখাত ও গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। সাধারণত শীত মৌসুমে বিশ্ববাজারে এবং দেশে এলপি গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা কমে যাওয়ায় দাম বাড়ে।
এছাড়া পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহও তুলনামূলক কম থাকায় এলপি গ্যাসের ওপর চাপ আরও বাড়ে। বর্তমানে এসব কারণেই বাজারে এলপি গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। সম্প্রতি গণমাধ্যমে এই সংকট নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)-এর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ও কর পুনঃনির্ধারণের অনুরোধ জানানো হয়। উপদেষ্টা পরিষদে এ বিষয়ে আলোচনা শেষে গৃহীত সিদ্ধান্ত লোয়াবের নেতাদের সঙ্গে সভায় উপস্থাপন করা হয়। সভায় বিস্তারিত আলোচনায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করে। তবে লোয়াবের সদস্যরা প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে শূন্য শতাংশ ভ্যাটের দাবি করেন।
সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে বর্তমান সংকট বিবেচনায় আমদানি পর্যায়ে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি প্রত্যাহার করে ১০ শতাংশের নিচে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে আরোপিত ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট, ব্যবসায়ী পর্যায়ের ভ্যাট এবং আগাম কর থেকে অব্যাহতি প্রদানের বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদের আলোচনার সঙ্গে একমত প্রকাশ করা হয়েছে। পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে, সারাদেশে আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারাদেশে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি স্থগিত রাখা হবে।