মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে মৃত্যুর সংখ্যা কোনোভাবেই কমছে না। সংক্রমণেরও সংখ্যাও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে রেকর্ড সংখ্যক ২ হাজার ১৮৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এই সংখ্যা গত সাড়ে তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
করোনাভাইরাসের কারণে এক বছর ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। হয়নি কোনো পরীক্ষা। আসছে ৩০ মার্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও করোনাভঅইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় কি হবে তা নিয়ে জনগণের মনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওযায় সম্প্রতি নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, ডেনমার্কসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ তাদের অঞ্চলভেদে লকডাউন দিতে বাধ্য হয়েছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের বেশ কয়েকটি অঞ্চলেও নতুন করে লকডাউন শুরু হয়েছে।
আমাদের দেশের জনগণের মনেও লকডাউনের সন্দেহ দানা বেঁধে উঠেছে। গত বুধবার (১৭ মার্চ) একটি দৈনিক ইংরেজি পত্রিকায় প্রকাশিত একটি খবর তাদের আরও ভাবিয়ে তুলেছে।
ওই পত্রিকার খবরে বলা হয়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ফের বেড়ে যাওয়ায় দেশের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনই না খুলতে এবং কোনো পাবলিক পরীক্ষা না নিতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
খবরে বলা হয়, গত মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সরকারকে পরামর্শ দেন। বৈঠকে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি লকডাউন দেওয়ারও প্রস্তাব করেন তারা।
সরকারকে দেয়া পরামর্শের বিষয়টি নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. এ বি এম খুরশিদ আলম বুধবার (১৭ মার্চ) রাতে ওই দৈনিক পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেন, ‘আমরা আলোচনার জন্য এই বিষয়গুলো বৈঠকে উপস্থাপন করেছি। আলোচনার জন্য এগুলো ছিলো আমাদের প্রস্তাব।’
তবে করোনা সংক্রমণ মোকাবেলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা.নাসিমা সুলতানা এ বিষয়টি দ্য রিপোর্টকে নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার মোবাইলে দ্য রিপোর্টকে দেয়া সাক্ষাতকারে নাসিমা সুলতানা জানান,‘ আমি যতদূর জানি,সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার বিষয়টি আমি অবগত নই। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে কিন্তু আমরা এখনও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি। তবে লকডাউন বা অন্য কোনো ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ই সিদ্ধান্ত নেবে।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘লকডাউন দেওয়ার ব্যাপারে আমরা সরকারকে প্রস্তাবনা দিয়েছি- এই ব্যাপারে আমি ব্যক্তিগতভাবে কিছু জানি না।’