বিশ্বের সবদেশে ন্যায্যতার ভিত্তিতে সুষ্ঠুভাবে টিকা সরবরাহের লক্ষ্যে বৈশ্বিক উদ্যোগ কোভ্যাক্স-এর মাধ্যমে টিকা বিতরণ শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে টিকা হাতে পেয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তত্ত্বাবধানে পরিকল্পনায় জানানো হয়েছে, চলতি বছর বাংলাদেশ কোভ্যাক্স থেকে ৭ কোটি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন পাবে। এ পরিকল্পনার আওতায় আগামী জুন মাসের মধ্যেই ১ কোটি ৯ লাখ ৮ হাজার ডোজ ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কোভেক্স থেকে ২০২১ সালে প্রায় ৭ কোটি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন পেতে যাচ্ছে। কোভ্যাক্স স্কিমের অংশ হিসেবে আমরা মে মাসের মধ্যে ১ কোটি ৯ লাখ ভ্যাকসিন পাব। এরমধ্যে ২০ লাখ চলতি মাসেই আসবে। এবং বাকি ভ্যাকসিন পর্যায়ক্রমে দেশে পৌঁছাবে।’
এর আগে গতকাল (মঙ্গলবার) কোভ্যাক্সের আওতায় বিশ্বজুড়ে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন সরবরাহের একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জুনের আগে সবচেয়ে বেশি ভ্যাকসিন যে দেশগুলো পাবে, তার মধ্যে বাংলাদেশ আছে ৪ নম্বরে। এ ছাড়া অন্যদেশগুলো হলো নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও ব্রাজিল।

কোভ্যাক্স কর্মসূচির আওতায় জুনের আগে বাংলাদেশ পাবে ১ কোটি ৯ লাখ ৮ হাজার ডোজ টিকা। এ ছাড়া বেশি টিকা পেতে যাওয়া অপর দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান ১ কোটি ৪৬ লাখ ৪০ হাজার, নাইজেরিয়া ১ কোটি ৩৬ লাখ ৫৬ হাজার, ইন্দোনেশিয়া ১ কোটি ১৭ লাখ ৪ হাজার ৮০০ ও ব্রাজিল ৯১ লাখ ২২ হাজার ৪০০ টিকা পাবে।
তালিকায় এরপরে পাঁচটি দেশ রয়েছে। এর মধ্যে ইথিওপিয়া ৭৬ লাখ ২০ হাজার, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গো ৫৯ লাখ ২৮ হাজার, মেক্সিকো ৫৫ লাখ ৩২ হাজার, মিসর ৪৩ লাখ ৮৯ হাজার ৬০০ ও ভিয়েতনাম ৪১ লাখ ৭৬ হাজার টিকা পাবে।
ইরান, মিয়ানমার, কেনিয়া ও উগান্ডাও টিকা পাওয়ার তালিকায় রয়েছে। প্রতিটি দেশ ৩০ লাখের বেশি টিকা পাবে। মে মাসের শেষ দিকে ভারতও কোভ্যাক্সের টিকার বড় সরবরাহ পেতে পারে।