করোনাভাইরাসের ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ ঠেকাতে চীনের কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে চার থেকে পাঁচ কোটি করোনাপ্রতিরোধী টিকা কিনতে সরকার চিঠি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
মঙ্গলবার (১১ মে) সকালে নেপালে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী চিকিৎসা ও ওষুধ সরঞ্জাম সরবরাহ শেষে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় তিনি এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশ ভারতে করোনায় মৃত্যু বেড়েছে। জনগণের সচেতনতার সঙ্গে সরকারি দিক নিদের্শনা বাড়াতে হবে। কোনো রাষ্ট্র বা দেশ এ অতিমারি থেকে একা বের হয়ে আসতে পারবে না। ধনী রাষ্ট্র ভ্যাকসিন পাবে, গরিব রাষ্ট্র পাবে না; তা হতে পারে না।’
এদিকে, চীনের কাছ থেকে উপহার পাওয়া ওই দেশের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সিনোফার্মের তৈরি করোনাভাইরাস প্রতিরোধী ৫ লাখ টিকা আগামীকাল বুধবার (১২ মে) দেশে এসে পৌঁছবে। বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং সোমবার (১০ মে) গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গত ২৯ এপ্রিল দেশের করোনাভাইরাসর সংক্রমণ মোকাবিলায় চীনা কোম্পানি সিনোফার্মের তৈরি করোনা টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেয় সরকার।
এ বিষয়ে ওইদিন ২৯ এপ্রিল রাজধানীর মহাখালীতে এক সংবাদ সম্মেলনে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘চীন প্রথম দফায় ৫ লাখ ডোজ দিচ্ছে এবং এর বাইরে আগামী দুই সপ্তাহে চীনের ভ্যাকসিন আসার সম্ভাবনা আছে। আমরা আজ সিনোফার্মের টিকার অনুমোদন দিলাম। এই টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার ২৮ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে।’
উল্লেখ্য, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় বেইজিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঢাকা। এরই প্রেক্ষিতে করোনা টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করে চীন। শুরুতে ৫ লাখ করোনার টিকা উপহার হিসেবে দেওয়ারও ঘোষণা দেয় শি জিনপিং প্রশাসন।