করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজশাহীতে মৃত্যুসংখ্যা কোনোভাবেই থামছে না। বরং এই বিভাগের বিভিন্ন জেলায় করোনার মৃত্যুমিছিলে প্রতিদিনই নতুন নতুন মরদেহ যোগ হচ্ছে। শনাক্তের সংখ্যাও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। করোনা রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিভাগের করোনা চিকিৎসার অন্যতম প্রধান চিকিৎসালয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল।
রবিবার (২০ জুন) গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিট ও নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে গত ২৪ মে থেকে ২০ জুন পর্যন্ত ২৮ দিনে রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিট ও আইসিউতে মারা গেলেন ২৪৮ জন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রবিবার (২০ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো দৈনিক করোনা রিপোর্টে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শনিবারও(১৯ জুন) লো১০ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছিল। শুক্রবার (১৮ জুন) গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতালে মারা যায় ১২ জন। বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) ১০ জনের মৃত্যু হয়। বুধবার মারা যায় ১৩ জন। এর আগের দিন ১৫ জুন গত ২৪ ঘন্টায় আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়।
রামেক হাসপাল রিপোর্টে বলা হয় ‘হাসপাতালের করোনা ইউনিট ও আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ১০ জনের মধ্যে রাজশাহীর ৭ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১ জন ও নাটোরের ১ জন রয়েছেন। মৃতদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত ছিলেন। অন্যরা করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ছিলেন। মৃতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ ও ৩ জন মহিলা। শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার (২০জুন) সকাল ৮টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয় বলে রিপোর্টে বলা হয়।
রামেক হাসপাতালের রিপোর্টে আরও বলা হয় ‘গত ২৪ ঘন্টায় করোনা ও এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন ৫৪ জন। গতকাল একদিনে ভর্তি হয়েছিলেন ৪৬ জন। এনিয়ে রবিবার পর্যন্ত মোট ভর্তি আছেন ৩৭৭ জন। এই সময় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৩৮ জন।
রামেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২৪ মে থেকে ২০ জুন পর্যন্ত ২৮ দিনে রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিট ও আইসিউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।’
রাজশাহী সিটিতে চলছে সর্বাত্মক লকডাউন
রাজশাহী নগরজুড়ে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় দফার ‘সর্বাত্মক লকডাউন’। গত ১১ জুন এক সপ্তাহের জন্য রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করা হয়; যা বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) মধ্যরাতে শেষ হয়। তবে মৃত্যু ও শনাক্তের হার না কমায় চলমান লকডাউন আরও এক সপ্তাহের জন্য বাড়ানো হয়। গত বুধবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মকর্তারা বৈঠক করে সর্বাত্মক লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়ে আগামী ২৪ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত করার ঘোষণা দেয়। লকডাউনে রাজশাহী নগরের রাস্তাঘাট ফাঁকা রয়েছে। দোকান-পাটও বন্ধ রয়েছে।
বগুড়ায় চলছে ৭ দিনের সর্বাত্মক লকডাউন
বগুড়া পৌরসভা এলাকায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিয়ে কঠোর লকডাউন চলছে।
জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক দ্য রিপোর্টকে জানান, উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুহার বেড়ে গেছে। পাশাপাশি বগুড়ার সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থানে করোনা সংক্রমণ বেড়েছে। বগুড়ার গ্রাম অঞ্চলগুলোতে করোনা সংক্রমণের হার বাড়ছে। এ অবস্থায় শনিবার (১৯০ জুন) রাত ১২টা থেকে বগুড়া পৌরসভা এলাকায় সাত দিনের কঠোর লকডাউন কার্যকর করা হচ্ছে।
করোনা সংক্রমণ রোধে জেলা প্রশাসনের এক নির্দেশনায় বগুড়ায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর বিপণীবিতানসহ সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ রাখার ঘোষণা আগে থেকেই রয়েছে। এরপর বগুড়া পৌরসভা এলাকায় লকডাউনের এই নতুন এই ঘোষণা আসে।