ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধে দুই পক্ষেরই অস্ত্র প্রায় ফুরিয়ে এসেছে

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুন ১১, ২০২২, ০৮:৩১ পিএম

ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধে দুই পক্ষেরই অস্ত্র প্রায় ফুরিয়ে এসেছে

ইউক্রেনের রুশ হামলার সাড়ে তিন মাসের মাথায় দুই পক্ষেরই অস্ত্র ফুরিয়ে আসার খবর পাওয়া গেছে। ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন-বিবিসি জানিয়েছে, রসদ ফুরিয়ে যাওয়ায় ইউক্রেন সাহায্য চাইছে পশ্চিমাদের কাছে, আর আধুনিক অস্ত্র ফুরিয়ে যাওয়ায় সোভিয়েত আমলের জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপনাস্ত্র দিয়ে স্থল হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া।

বিবিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন, অর্থ, রসদসহ সব ধরনের সাহায্য নেওয়ার পরও রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে টিকতে পারছে না ইউক্রেন। ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মাইকোলিভ শহরে যখন রুশ বাহিনীর সঙ্গে তুমুল যুদ্ধ চলছে, ঠিক তখনই ইউক্রেন রসদ ফুরিয়ে যাওয়ার খবর দিলো।

রুশ সৈন্যদের বিরুদ্ধে লড়তে দূরপাল্লার অস্ত্র ও গোলাবারুদ দিতে পশ্চিমাদের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন মাইকোলিভের মেয়র ভিটালি কিম। তিনি বলেছেন, “এই মুহূর্তে ইউরোপ ও আমেরিকার সাহায্য ইউক্রেনের জন্য খুবই দরকার।” ওদিকে সেভারোদোনেস্ক শহরেও দুইপক্ষের মধ্যে ব্যাপক লড়াইয়ের খবর পাওয়া গেছে।

পূর্বাঞ্চলীয় ডোনবাসের লুহান্সক এবং দোনেস্কের রুশপন্থীদের ওপর নির্যাতন, মস্কোর আপত্তি সত্ত্বেও ইউক্রেনের ন্যাটোর সদস্য হওয়ার ইচ্ছাসহ বেশ কয়েকটি কারণ দেখিয়ে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়া। এরপর কয়েক দফায় যুদ্ধ ধামানোর আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ চেষ্টা ভেস্তে গেছে। সমাধান খুঁজতে একের পর এক নেতাদের বৈঠক চলমান রয়েছে। এই সংকটের মধ্যেই বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ন্যাটোর বৈঠকে যোগ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বর্তমানে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ সফরে আছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ভন ডের লেয়ান। যদিও লেয়ানের এ সফরের উদ্দেশ্য ইউক্রেনের ইইউতে যোগদান ইস্যুতে।

ওদিকে ইউক্রেনের রুশপন্থী নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে যে তিন বিদেশীকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে, তাদের বাঁচাতে শেষ চেষ্টা করছে ইউক্রেন। ওই তিন নাগরিকের মধ্যে দুই জন ব্রিটিশ এবং একজন মরক্কোর নাগরিক। যুদ্ধ চলাকালে রুশ সৈন্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার অভিযোগ আনা হয়েছে দুই ব্রিটিশের একজনের বিরুদ্ধে।

কিয়েভ জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চলতি মাসের ৩ তারিখ পর্যন্ত ১০ হাজার ইউক্রেনিয়ান সৈন্য নিহত হয়েছে। অপরপক্ষে ৩০ হাজার রুশ সৈন্য নিহত হয়েছে বলে দাবি কিয়েভের। তবে ২৫ মার্চের পর থেকে রাশিয়া রুশ সৈন্যদের হতাহতের সংখ্যা নিয়ে আরও কোন তথ্য দেয়নি। যুদ্ধে মার্চ পর্যন্ত ১৩শ ৫১ জন রুশ সৈন্য নিহত হওয়ার কথা জানায় মস্কো। এরপর থেকেই ডোনবাস ও দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরগুলোতে দুইপক্ষের মধ্যে তুমুল লড়াই শুরু হয়।

 

 

Link copied!