ভারতে আবারও কৃষক আন্দোলন শুরু হয়েছে। গত সোমবার দিল্লির যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয় সংযুক্ত কৃষাণ মোর্চার নেতৃত্বাধীন ভারতের প্রায় ৪২টি কৃষক সংগঠন। সোমবার সকাল থেকে কয়েক হাজার কৃষক দিনভর এ সমাবেশে যোগ দেন। সমাবেশকে ‘মহাপঞ্চায়েত’ অভিহিত করে কৃষকনেতারা বলেছেন, আগামী ৬ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে সংযুক্ত কিষান মোর্চার (এসকেএম) বৈঠকে তারা আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করবেন।

কৃষক সমাবেশে নিত্যপণ্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্ব নিয়েও কৃষকরা সরব হন। কৃষকনেতারা বলেছেন, এমএসপির আইনি বৈধতা পেতে তারা শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই করে যাবেন।
কেন ফের কৃষক আন্দোলন?
দুই বছর আগে নরেন্দ্র মোদি সরকারের ৩ কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ এবং রাজস্থানের হাজার হাজার কৃষক দিল্লি সীমানা এলাকায় শিবির করে বিক্ষোভ সামিল হয়েছিল। প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে কৃষকদের হার মানা মনোভাবে পরে পিছু হটে কেন্দ্রীয় সরকার। অবশেষে ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিতর্কিত কৃষি আইনটি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
কেন্দ্রীয় সরকার বিতর্কিত তিন কৃষি আইন প্রত্যাহার করে নিলেও আইন করে বিভিন্ন ফসলের এমএসপি নির্ধারণের পথে এগোয়নি সরকার। কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং টোমারের দাবি, সরকার এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। তবে কৃষকেরা বলছেন, তাঁদের সঙ্গে বৈঠকে সরকার ওই দাবি বিবেচনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। আর এই প্রতিশ্রুতির কারণেই আলোচনা সাপেক্ষে আন্দোলন তুলে নেন কৃষকেরা।
তবে তাদের দাবি, এরপর প্রায় একবছর পার হলেও সরকারের দেওয়া কোনো প্রতিশ্রুতি রক্ষিত হয়নি। ফলে দাবি আদায়ে আবারও বিক্ষুব্ধ কৃষকদের অস্থায়ী ঠিকানা এখন দিল্লির রাজপথ।

আনন্দবাজার, টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, আন্দোলনরত কৃষকেরা বলছেন, ফসলের ন্যায্যমূল্য এখনও নিশ্চিত করেনি কেন্দ্রীয় সরকার।লখিমপুর খেরি কর্মকাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় কুমার মিশ্রকেও অপসারণ করা হয়নি। কৃষক আন্দোলনে যেসব কৃষক মারা গেছেন তাদের শহীদের মর্যাদা দেওয়া হয়নি। মৃত কৃষকদেগর পরিবারও পায়নি কোনো ক্ষতিপূরণ। কৃষকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোও প্রত্যাহার করা হয়নি। প্রত্যাহার করা হয়নি কৃষকদের বিদ্যুৎ বিলও। এসব কারণেই ফের রাজপথে নেমেছেন কৃষকেরা।
আন্দোলনরত কৃষকরা পুরনো এ দাবির পাশাপাশি নতুন দাবি তুলেছেন।
তারা বলেছেন, লখিমপুর খেরিতে গাড়িচাপা দিয়ে কৃষক হত্যার ঘটনায় দায়ী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রকে বরখাস্ত ও গ্রেফতার করতে হবে। ওই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে অজয় মিশ্রের ছেলে আশিস মিশ্র এখনও কারাগারে।
সংযুক্ত কিষান মোর্চার বিভিন্ন সংগঠন যৌথভাবে কৃষকদের এই বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু হয়েছে। মোর্চার অন্যতম শরিক ভারতীয় কিষান ইউনিয়নের (বিকেইউ) নেতা রাকেশ টিকায়েত মূলত কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

কৃষকদের সংগ্রাম শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত চলবে বলে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে হুঁশিয়ারি দেন। আন্দোলনের ভবিষ্যত পরিকল্পনা ঠিক করতে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের সব কৃষক সংগঠনের সঙ্গে তিনি বৈঠকে বসবেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে, গত বছরের আন্দোলনে বেশ কয়েকজন কৃষকের প্রাণহানীর পর কেন্দ্রীয় সরকার এবার আর হার্ড লাইনে যাচ্ছে না। কৃষকদের সমাবেশে যেতে বাধা দিলেও লাঠিচার্জ ও সংঘর্ষ এড়িয়ে চলছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে সরকারি সম্পত্তি ও স্থাপনার নিরাপত্তায় সজাগ রয়েছে।