ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৩, ১১:২১ পিএম
শক্তিশালী ভূমিকম্পে তছনছ হয়ে গেছে তুরস্ক-সিরিয়ার বেশ কয়েকটি শহর। দেখলে মনে হবে যেনো ধ্বংসস্তুপ। উদ্ধার কাজ চলছে পুরোদমে। মৃত্যুমিছিলে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন মরদেহ। এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই তুরষ্কের। অন্যদিকে, সিরিয়ায়ও লাফিয়ে বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা। এমন পরিস্থিতিতে নিহতদের নিয়ে ‘ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন’ প্রকাশ করেছে ফরাসি ব্যঙ্গবিষয়ক ম্যাগাজিন শার্লি হেবদো।
ভূমিকম্প আঘাত হানায় ব্যাপক প্রাণহানী ও ক্ষয়ক্ষতির পরিপ্রেক্ষিতে দুই দেশের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানাতে বিশ্বের বিভিন্ন অনেক দেশে যখন রাষ্ট্রীয় শোক পালন করছে, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যখন এগিয়ে আসছে ঠিক তখনি শার্লি হেবদো ওই ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রকাশ করলো। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
শিল্পী পিয়েরিক জুইনের আঁকা ছবিতে ক্যাপশনসহ ধ্বংসস্তূপ দেখানো হয়েছে এবং তাতে লেখা হয়েছে, ‘ট্যাঙ্ক পাঠাতে হবে না।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা বলেছেন, কার্টুনটি লাখ লাখ মানুষের বিপর্যয়কে উপহাস করেছে। কেউ কেউ এই অঙ্কনটিকে ‘জঘন্য’, ‘লজ্জাজনক’, ‘বিদ্রোহী’ এবং ‘বিদ্বেষাত্মক বক্তব্য’ বলে অভিহিত করেছেন।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সারা আসাফ নামে নারী প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লিখেছেন, তিনি পত্রিকাটির প্রতি তার সমর্থন প্রত্যাহার করছেন। ‘জে নে সুইস প্লাস শার্লি’ (আমি আর শার্লি নই)।
প্রসঙ্গত, এর আগে শেষ নবিকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রকাশ করেছিল শার্লি হেবদো। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে পত্রিকাটির দপ্তরে হামলা চালায় এবং ১২ জনকে হত্যা করা হয়। তবে ওই হত্যার প্রতিক্রিয়ায় অনেকে পত্রিকাটির প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করে ‘জে সুইস শার্লি’ (আমি শার্লি) স্লোগান দিয়েছিলেন।
আমেরিকান মুসলিম পণ্ডিত ওমর সুলেমান বলেছেন, ‘হাজার হাজার মুসলমানের মৃত্যুকে উপহাস করা হচ্ছে, ফ্রান্স আমাদেরকে সর্বক্ষেত্রে অমানবিক করে তুলেছে।’