এপ্রিল ২৪, ২০২৩, ০৯:৫৫ পিএম
আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও আফগানিস্তানের পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ভারতে অনুষ্ঠেয় সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) এর বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন রাশিয়া ও চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা। এপ্রিলের ২৭ ও ২৮ তারিখ এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ভার্চুয়ালি যোগ দেয়ার কথা রয়েছে।
চীনের সঙ্গে ভারতের সাড়ে ৩ হাজার কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
রাশিয়ার সার্গেই শইগু ও চীনের লি শাং ফু ছাড়াও এসসিও সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদেরও এ বৈঠকে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এসসিও সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের স্বাগত জানাবেন।
ভারতের একাধিক জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী এ বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ যৌথ আ্যাকশন ও আফগানিস্তানের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। বৈঠকের হোস্ট কান্ট্রি ভারত বা এসসিও - কারো পক্ষ থেকে অফিসিয়ালি বৈঠকের আলোচ্যসূচী প্রকাশ করা হয়নি।
নয়াদিল্লীতে অনুষ্ঠিতব্য এসসিও'র এবারের সভায় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ সশরীরে যোগ দেবেন না বলে জানানো হয়েছে। তবে এতথ্যও জানানো হয় যে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দিতে পারেন। পাকিস্তানের সাথেও ভারতের সীমানা বিরোধ চলে আসছে দীর্ঘদিন থেকে।
এদিকে,এশিয়ার দুই পারমানবিক শক্তিধর দেশ চীনের সাথে ভারতের সীমান্ত বিরোধ মাঝে মধ্যেই বিশ্ববাসী দেখে আসছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এ দুদেশের বিরোধ প্রায় যুদ্ধাবস্থায় চলে যায়। এখন পর্যন্ত এ বিরোধ অস্বাভাবিক পর্যায়ে বিরাজ করছে।
এর আগে, ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় চীন ও ভারতের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মধ্য সংঘর্ষ হয়। গত বছর অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তে চীন ও ভারতের সেনাসদস্যদের মধ্যেও সংঘর্ষ হয়। লাদাখ সীমান্তের পশ্চিম অংশে ৬৫টি টহল পয়েন্টের মধ্যে ২৬টিতে প্রবেশের অধিকারও হারিয়েছে ভারত। ভারতশাসিত লাদাখের অন্যতম প্রধান শহর লেহর পুলিশ সুপার পি ডি নিত্যর করা এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে পি ডি নিত্য লিখেছেন, ‘বর্তমানে কারাকোরাম পাস থেকে চুমুর পর্যন্ত ৬৫টি টহল পয়েন্ট (প্যাট্রোলিং পয়েন্ট বা পিপি) আছে। এ এলাকায় ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর (আইএসএফ) সদস্যরা নিয়মিত টহল দেন। ৬৫টি টহল পয়েন্টের মধ্যে ২৬টিতে আমাদের উপস্থিতি হারিয়ে গেছে। পিপি ৫-১৭, ২৪-৩২, ৩৭-এ ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর টহল সীমিত হয়েছে অথবা কোনো টহলই নেই।’
পুলিশ কর্মকর্তার ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘পরবর্তী সময়ে চীন আমাদের এ সত্য মেনে নিতে বাধ্য করেছে যে এসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী অথবা ভারতের বেসামরিক নাগরিকদের উপস্থিতি দেখা যায়নি, যে কারণে ওই অঞ্চলে চীনারা উপস্থিত হয়েছেন।ফলে আইএসএফের নিয়ন্ত্রণে থাকা সীমানা ভারতের দিক থেকে সরে গেছে এবং এ ধরনের সব পকেটে একটি “বাফার জোন” তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে ভারত। চীনের সামরিক বাহিনীর (পিএলএ) ইঞ্চি ইঞ্চি করে জমি দখলের এই কৌশল “সালামি স্লাইসিং” নামে পরিচিত।’
এনডিটিভি'র রিপোর্টে বলা হয়, গত সপ্তাহে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে দেশটির শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের বার্ষিক এক সম্মেলনে লাদাখ নিয়ে এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
সম্মেলনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে, নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকের এক সপ্তাহ পর এসসিও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক হবার কথা রয়েছে। দি স্টেটসম্যান পত্রিকা জানায় ভারতের পর্যটন নগরী গোয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠক পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভূট্টো জারদারী অংশগ্রহণ করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
২০০১ সালে গঠিত হওয়া এসসিও সদস্য দেশ হলো রাশিয়া, চীন, কিরগিজ প্রজাতন্ত্র, কাজাখস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্থান, ভারত ও পাকিস্তান। সম্প্রতি ইরানকে এর পূর্ণ সদস্যের মর্যাদা দেয়া হয়েছে।
পর্যবেক্ষক সদস্য হিসেবে আফগানিস্তান, বেলারুশ ও মঙ্গোলিয়া পূর্ণ সদস্যপদ পেতে অপেক্ষমাণ রয়েছে। এছাড়া, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, কম্বোডিয়া, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা 'ডায়লগ পার্টনার' এর মর্যাদা পেয়ে আসছে।