পেন্টাগনকে পেছনে ফেলে বিশ্বের বৃহত্তম অফিস সুরাট ডায়মন্ড বুর্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জুলাই ২১, ২০২৩, ০৪:২০ পিএম

পেন্টাগনকে পেছনে ফেলে বিশ্বের বৃহত্তম অফিস সুরাট ডায়মন্ড বুর্স

সংগৃহীত ছবি

বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবনের নাম বুর্জ খলিফা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থিত এই বহুতল ভবনটিকে নিয়ে এখনও চর্চা চলছে। তবে সবচেয়ে বড় অফিস কোনটি?

বিশ্বের সবচেয়ে বড় অফিস ভবন বলতে এত দিন সকলে চিনতেন পেন্টাগনকে। এটি ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের আর্লিংটনে ৫৮৩ একরের বিশাল এলাকা জুড়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের অফিস।

তবে এবার পেন্টাগনকে ছাড়িয়ে বিশ্বের বৃহত্তম অফিস ভবনের তকমা ছিনিয়ে নিল ভারত। গুজরাটের একটি অফিস এই শিরোপা পেয়েছে।

গুজরাটের সুরাটে গড়ে উঠা বিশ্বের সবচেয়ে বড় অফিসের নাম সুরাট ডায়মন্ড বুর্স। ৩৫ একর জমির উপর নতুন নির্মিত ১৫ তলা এই ভবনটিকে হীরার মার্কেট বললেও অতিরিক্ত হবে না। হীরা সংক্রান্ত ব্যবসার জন্য ৬৫ হাজার ব্যবসায়ীর ওয়ান স্টপ গন্তব্য এখন গুজরাটের এই ভবনটি।

আকারে এটি পেন্টাগনের চেয়েও বড়। সুরাট ডায়মন্ড বুর্সের নির্মাতারা জানিয়েছেন, অফিসটিতে মোট ৬ লাখ ৬০ হাজার বর্গমিটার কাজের জায়গা (ফ্লোর এরিয়া) রয়েছে। পেন্টাগনে কাজের জায়গা ৬ লাখ ২০ হাজার বর্গমিটার।

সুরাটের অফিসটিতে কর্মীর সংখ্যাও প্রচুর। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ি, পেন্টাগনে ২৬ হাজার কর্মচারী কাজ করেন। কিন্তু সুরাট ডায়মন্ড বুর্সে রয়েছে প্রায় ৬৫ হাজার মানুষের কর্মস্থল।

২৬৮ মিটার উঁচু সুরাট ডায়মন্ড বুর্স গুজরাটের মুকুটে নতুন পালক যোগ করেছে। চলতি বছরেই এই অফিস ভবনটির উদ্বোধন করা হবে। শুরু হয়ে যাবে কাজও।

হিরের ব্যবসার জন্য ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী সুরাট বরাবরই বিখ্যাত। খনি থেকে তুলে আনা হিরে কেটে এখানেই বাজারের উপযোগী করে তোলা হয়। তৈরি হয় হিরের গয়নাও।

বিশ্বের ৯০ শতাংশ হিরে কাটা হয় এই সুরাটে। সেখানেই মাথা তুলেছে সবচেয়ে বড় অফিস। হিরে কাটা, পালিশ করা থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক লেনদেন, সব কাজই হবে এই এক ছাদের তলায়।

ভারতে এতদিন হিরের ব্যবসার জন্য অনেকেই মুম্বাই যাতায়াত করতেন। সুরাট ডায়মন্ড বুর্সে এক ছাদের নীচে সব বন্দোবস্ত হওয়ায় সেই সমস্যা আর হবে না।

অফিস ভবনটি তৈরি করেছে এক বিখ্যাত স্থাপত্যনির্মাণ সংস্থা। প্রকল্পের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহেশ গাধভি জানিয়েছেন, সুরাট ডায়মন্ড বুর্স গুজরাটের হিরের বাজারকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

অফিস ভবনটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা। ১৫ তলার বহুতল এই ভবনটিতে কর্মীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য রয়েছে মোট ১৩১টি লিফ্‌টের ব্যবস্থা।

নির্মাতাদের দাবি, এই অফিসটি ঠান্ডা রাখার জন্য প্রাকৃতিক উপায়ে বায়ু চলাচলের বন্দোবস্ত রয়েছে। ব্যবহৃত হয়েছে সৌরশক্তিও। পরিবেশ রক্ষার যাবতীয় নিয়ম মেনেই বহুতলটি তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি নির্মাতাদের।

সুরাট ডায়মন্ড বুর্সের প্রশংসা করেছেন খোদ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর মতে, সুরাটে হিরের ব্যবসা কেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তার উদাহরণ এই বিশাল অফিস ভবন।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় অফিসটির উদ্বোধন করবেন গুজরাটের ঘরের ছেলে ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামী নভেম্বর মাস থেকে এই অফিসে পুরোদমে কাজ শুরু হয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। 

Link copied!