ফুকুশিমার দূষিত পানি সাগরে ছাড়বে জাপান, উদ্বেগ কতটা?

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জানুয়ারি ১৫, ২০২৩, ১২:৫২ এএম

ফুকুশিমার দূষিত পানি সাগরে ছাড়বে জাপান, উদ্বেগ কতটা?

দশ বছর আগে ফুকুশিমার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে থেকে ১০ লাখ টনের বেশি জমা হওয়া তেজস্ক্রীয় পানি সাগরে নিষ্কাশন করবে বলে জানিয়েছে জাপান। আর তা নিয়ে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

১৯৮৬ সালে ইউক্রেনের চেরনোবিলে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিস্ফোরণের পর ২০১১ সালের ফুকুশিমা বিপর্যয় সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ছিল।

ফুকুশিমা দাইইচি পরমাণু দুর্ঘটনা হল ভূমিকম্প ও সুনামির ফলে জাপানে ঘটা বৃহৎ পারমাণবিক বিপর্যয়। ওকুমায় অবস্থিত ফুকুশিমার এই পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রর ছয়টি চুল্লীর দু’টিতে বিস্ফোরণ ঘটে। এরপরেই আরও তিনটি রিয়্যাক্টরের আংশিক বিস্ফোরণ হয়। নিকটবর্তী অঞ্চলের বহু বাসিন্দাকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির আশেপাশে তেজস্ক্রিয় বিকিরণের মাত্রা পৌঁছে যায় প্রতি ঘণ্টায় ৪০০ মিলিসিভার্টে।

বিস্ফোরণের পর প্রতিদিন এ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ১০০ ঘনমিটার দূষিত পানি উৎপন্ন করে। ভূগর্ভস্থ পানি, সাগরের পানি ও পারমাণবিক চুল্লি শীতল রাখতে ব্যবহৃত পানির সংমিশ্রণে এ দূষিত পানি উৎপন্ন হয়। এরপর এ পানি শোধন করে ট্যাংকে জমা রাখা হয়। এখন বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১৩ লাখ ঘনমিটারের বেশি পানি জমেছে এবং এতে পানি ধারনের স্থান ফুরিয়ে গেছে। জাপান এ বছরই এ পানি সমুদ্রে ফেলার পরিকল্পনা করছে। এটি ছেড়ে শেষ করতে জাপানের লাগবে প্রায় চার দশক ।

প্রতিবেশী দেশগুলোসহ স্থানীয় জেলে সম্প্রদায় তেজস্ক্রিয় পানি সাগরে ছাড়ার বিরোধিতা করছে। মানুষের জনজিবনের বিপর্যয়ের পাশাপাশি জেলেদের আশঙ্কা,  এতে ওই অঞ্চলের সামুদ্রিক খাবারের ওপর আস্থা হারাবে মানুষ।

প্যাসিফিক আইল্যান্ড ফোরাম জাপানের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে।

সংস্থাটির মহাসচিব হেনরি পুরা স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ২০২১ সালে জাপান বলেছিল তারা সব রকমের বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণের পর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কিন্তু সেটি না করে তারা তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করছে।

এদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা কর্তৃপক্ষ বলছে, শোধনের পর পানিতে উপস্থিত তেজস্ক্রিয় কণা ট্রিটিয়ামের মাত্রা জাতীয় মানদণ্ড পূরণে সক্ষম হয়েছে।

এছাড়াও  আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) বলছে, জাপানের প্রস্তাবটি নিরাপদ।

এর আগে ১৯৮৬ সালে ইউক্রেনের চেরনোবিলে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুতর পারমাণবিক দুর্ঘটনার পর  ৩০ মাইল জুড়ে এলাকায় মানুষের বসবাস নিষিদ্ধ করা হয়।  এখনো সেটি বলবৎ আছে।

Link copied!