ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বরিসের উত্তরসূরি লিজ ট্রাস!

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুলাই ৭, ২০২২, ০৬:০৬ পিএম

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বরিসের উত্তরসূরি লিজ ট্রাস!

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন পদত্যাগ করেছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে  ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির প্রধানের পদ থেকেও সরে গেছেন তিনি।

আরও পড়তে পারেন: পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন

বরিস জনসন পদত্যাগ করায় আগামী সপ্তাহে ব্রিটেন পেতে চলেছে নতুন প্রধানমন্ত্রী। কে হবেন বরিস জনসনের উত্তরসূরি। এনিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। তবে এক্ষেত্রে ব্রিটেনের রাজনৈতিক মহলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাসের নামই বেশি উচ্চারিত হচ্ছে।

লিজ ট্রাস

বিবিসি, রয়টার্সসহ ব্রিটেনের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বর্তমান নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন। ট্রাস  নিজের দলের মধ্যেও সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তি।  ইউক্রেন-রাশিয়া ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি সরব থাকা ট্রাস বরিস জনসনের অত্যন্ত আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবেও পরিচিত।

গত সেপ্টেম্বরে ব্রিটেনের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান লিজ ট্রাস। ব্রিটেনের ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার আগে লিজ ট্রাস ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ে সাফল্যের সঙ্গে ব্রিটেনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংক্রান্ত দায়িত্ব সামলেছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

 

ঋসি সুনাক

 

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন পদত্যাগকারী সাবেক অর্থমন্ত্রী ঋসি সুনাক। তিনি কনজারভেটিভ পার্টির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাসীন ব্যক্তি। 

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন পদত্যাগকারী সাবেক অর্থমন্ত্রী ঋসি সুনাক। তিনি কনজারভেটিভ পার্টির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাসীন ব্যক্তি।

বরিস জনসন সরকারে ভারতীয় বংশোদ্ভূত অর্থমন্ত্রী ছিলেন ঋষি সুনক, দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে বলা হচ্ছে তাঁকে। সুনক ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং ভারতের প্রখ্যাত ব্যবসায়ী নারায়ণ মূর্তির জামাতা। সুনক (৪২) ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইতিহাস তৈরি করেছিলেন যখন বরিস জনসন তাকে দেশের অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন।

সাজিদ জাভিদ

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে এরপর আছেন পদত্যাগকারী স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ।প্রথম দফা নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সাজিদ জাভিদকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে পদত্যাগের পর পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লড়াইয়ে তিনিও ছিলেন।

৪৯ বছর বয়সী এই মুসলিম কনজারভেটিভ এমপি থেরেজা মে সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। প্রথম কোনো মুসলিম হিসেবে যুক্তরাজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান তিনি।

সাজিদ জাভিদের বাবা ১৯৬০ এর দশকে পাকিস্তান থেকে এদেশে এসে প্রথমে কাপড়ের কারখানায় শ্রমিক হন। পরে বাস চালাতেন।জাভিদ পড়াশোনা করেন অর্থনীতি বিষয়ে। মাত্র ২৫ বছর বয়সেই মার্কিন চেজ মানহ্যাটন ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট হন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতেই ২০ বছর বয়সে কনজারভেটিভ পার্টিতে যোগ দেন তিনি। পরবর্তীতে ব্যাংকিং পেশা থেকে পুরোদমে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ২০১০ সালে ব্রোমসগ্রোভ থেকে নির্বাচন করে পার্লামেন্ট সদস্য হন তিনি।

বেন ওয়ালেস

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে আরও এগিয়ে আছেন বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেসও।আফগানিস্তানে তালেবান আবার ক্ষমতায় গেলে তাদের সাথে ব্রিটেন কাজ করবে-এমন মন্তব্য করে আলোচনায় আসেন ব্রিটেনের সাবেক এই  প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

গত বছরের জুলাইয়ে ডেইলি টেলিগ্রাফকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আফগানিস্তানের যেকোনো সরকার যদি আন্তর্জাতিক আইনকানুন মেনে চলে, তবে যুক্তরাজ্য সরকার তাদের সঙ্গে কাজ করবে।

বেন ওয়ালেস কনজারভেটিভ পার্টির সদস্যদের মধ্যে জনপ্রিয়। তাছাড়া ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ নিয়ে সরব থাকায় ব্রিটিশদের মধ্যেও তার জনপ্রিয়তা রয়েছে।

Link copied!