পূর্ব ভারতের ওড়িশায় গতকাল ভয়াবহ এক ট্রেন দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৮৫০ জনেরও বেশি।
ওডিশা ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক সুধাংশু সারেঙ্গি এএফপিকে বলেছেন, তিন ট্রেনের সংঘর্ষ হয় কয়েক মিনিটে।
দুর্ঘটনার কারণ জানতে এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুপুর সোয়া ৩টা নাগাদ হাওড়ার অদূরে শালিমার স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করেছিল করমণ্ডল এক্সপ্রেস। প্রায় চার ঘণ্টা পরে উড়িষ্যার বালেশ্বরের বাহানগা বাজারের কাছে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ২৩ বগির ট্রেনটি।
দুর্ঘটনাস্থল পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা থেকে ২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে আর ওডিশার ভুবনেশ্বর থেকে ১৭০ কিলোমিটার উত্তরে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কলকাতাগামী বেঙ্গালুরু-হাওড়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস ট্রেনটি ডাউন লাইনে ছিল। সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে ওডিশার বাহাঙ্গাবাজার এলাকায় এই ট্রেনের কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এর মিনিট পাঁচেক পর আপ লাইন দিয়ে ওই এলাকা পার হচ্ছিল চেন্নাইগামী শালিমার–চেন্নাই সেন্ট্রাল করমন্ডল এক্সপ্রেস ট্রেনটি। হঠাৎ এই ট্রেনের কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়।
এ সময় পাশের একটি লাইনে আগে থেকেই দাঁড়িয়ে ছিল মালবাহী একটি ট্রেন। করমন্ডল এক্সপ্রেস ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়ে প্রথমে বেঙ্গালুরু-হাওড়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসের কয়েকটি বগিতে আঘাত করে। পরে করমন্ডল এক্সপ্রেস ট্রেনের কয়েকটি বগি আগে থেকে দাঁড়িয়ে থাকা পণ্যবাহী ট্রেনের ওপর গিয়ে আছড়ে পড়ে।
দুর্ঘটনা পরপরই ঘটনাস্থলে যারা ছুটি গিয়েছিলেন তাদের একজন- অশোক সামাল।
যে রেললাইনে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে তার কাছেই অশোকের দোকান। দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার কথা ভাবছিলেন অশোক। হঠাৎ শুনলেন রেললাইনে কানফাটা এক শব্দ।
সঙ্গে সঙ্গে তিনি ও আরও বেশ কয়েকজন রেল লাইনের দিকে ছুটে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে দেখেছিলেন, রেল লাইন থেকে ছুটে মাটিতে পড়ে আছে ট্রেনের বগি।
উদ্ধারকাজ শেষ হলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনে এখনো অনেক যাত্রী আটকে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।