যুদ্ধাংদেহী অবস্থায় বেইজিং-ওয়াশিংটন, প্রণালিতে চীনা যুদ্ধবিমান

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

আগস্ট ২, ২০২২, ০৯:৪৮ পিএম

যুদ্ধাংদেহী অবস্থায় বেইজিং-ওয়াশিংটন, প্রণালিতে চীনা যুদ্ধবিমান

মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সংঘাত ও উত্তেজনার পারদ এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। চীনের হুমকি ও সামরিক মহড়া এবং পেলোসির অনড় অবস্থায় সংঘাতের আশঙ্কা দানা বাঁধছে৷

তাইওয়ানের পথে পেলোসি

বিশ্বের কোথায়, কোন দেশে, কোন বিমান যাচ্ছে বা আসছে সেটি দেখা যায় ফ্লাইটরাডার২৪ নামে একট ওয়েবসাইট। এই ওয়েবসাইটের বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেনে বলা হয়, পোলোসিকে বহনকারী যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর একটি বিমান মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে কুয়ালামপুরের সুবাং বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মালয়েশিয়া থেকে তাইওয়ানে সাধারণত দক্ষিণ চীন সাগরের ওপর দিয়ে যায় বিমান। সময় লাগে পাঁচ ঘণ্টা। তবে খুব সম্ভবত পেলোসিকে বহনকারী এ বিমানটি দক্ষিণ চীন সাগর দিয়ে না গিয়ে বোরনিও দ্বীপপুঞ্জের দিকে যায়। তাইওয়ানের স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩০ মিনিটে তাইওয়ানে পৌঁছাবেন পেলোসি।

যুদ্ধের শঙ্কা বিশ্লেষকদের

ন্যান্সি পেলোসিকে চীনের একজন কড়া সমালোচক বলে মনে থাকে বেইজিং। পেলোসি তাইওয়ান সফরে গেলে ১৯৯৭ সালের পর ২৫ বছরের মধ্যে এই প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্পিকার তাইওয়ান সফর করবেন।

ইউক্রেন সঙ্কট সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো যখন হিমশিম খাচ্ছে ঠিক তখনই তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে নতুন সংঘাত আরও বড় বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে বলে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এক চীন নীতি' মেনে ওয়াশিংটন এতকাল তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক দূরত্ব বজায় রেখে এসেছে৷ কিন্তু চীনের বেড়ে চলা ‘আগ্রাসী’ মনোভাবের কারওয়াশিংটন এবার প্রকাশ্যে তাইপের পাশে দাঁড়াতে এত বড় ঝুঁকি নেয় কিনা, আপাতত সে বিষয়ে জল্পনাকল্পনা চলছে৷

পেলোসি এরই মধ্যে তার এশিয়া সফরের শুরুতে সিঙ্গাপুর সফর শেষ করে মালয়েশিয়ায় রয়েছেন। মার্কিন সংসদ সদস্যদের এক প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি৷ এখন পর্যন্ত পেলোসির সফর তালিকায় শুধু সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের নাম রয়েছে৷

চীনের বড়ো ধরণের সামরিক মহড়া

 

তবে পেলোসির সম্ভাব্য তাইওয়ান সফর সম্পর্কে চরম হুমকি দিয়েছে বেইজিং৷ চীন তাইওয়ান প্রণালিতে এযাবকালের সবচেয়ে বড় ধরণের সামরিক মহড়া শুরু করেছে৷ যুদ্ধবিমান টহল দিতে শুরু করেছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে একাধিক রণতরী।

একটি সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়,  তাইওয়ান প্রণালিতে চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে একটি অনানুষ্ঠানিক সীমানা রয়েছে। গতকাল সোমবার থেকে সেই সীমানা ঘেঁষে চীনের একাধিক যুদ্ধবিমানের মহড়া চালাতে দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি পর্যবেক্ষণে তাইওয়ানও যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে। অবশ্য তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখনো কিছুই জানায়নি।

ওই সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল থেকে চীনা যুদ্ধবিমান ধারাবাহিকভাবে তাইওয়ান প্রণালিতে মহড়া চালাচ্ছে। মাঝেমধ্যে অল্প সময়ের জন্য মধ্যবর্তী সীমানাও ‘স্পর্শ’ করে। পরে তাইওয়ান প্রণালির চারপাশে অন্য অংশ ঘিরেও মহড়া চালায়। এ সময় প্রণালির অন্যদিকে তাইওয়ানের যুদ্ধবিমানের মহড়া চালাতে দেখা যায়।

গত শনিবার থেকে চীনের মূল ভূখণ্ড ও তাইওয়ানের মাঝে শক্তি প্রদর্শন করেছে চীনা নৌ-বাহিনী৷ বিমান বাহিনীও রবিার তাইওয়ানের কাছে নজরদারি চালিয়েছে৷ যুক্তরাষ্ট্রও বসে নেই। গত সপ্তাহে দক্ষিণ চীন সাগরে ‘ইউএসএস রনান্ড রেগান' নামের রণতরি পাঠিয়েছে৷ তবে ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপকে পূর্ব-পরিকল্পিত হিসেবে বর্ণনা করছে৷

চীন সামরিক হস্তক্ষেপ করলে যুক্তরাষ্ট্র কী করবে

তাইওয়ানের উপর চীনের সামরিক হামলার আশঙ্কা বাড়ছে৷ বিশেষ করে ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার হামলার পর চীন এমন চরম পদক্ষেপ নিতে আরও ‘সাহস' পেতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন৷ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গত সপ্তাহে পেলোসির সম্ভাব্য তাইওয়ান সফর সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে সতর্ক করে দেওয়ার পর উত্তেজনা আরও বাড়ছে৷ 

ওই সময় টলিফোনে শি বাইডেনকে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয় সফরকালে পেলোসি তাইওয়ান যেতে চাইলে তার বিমান ভূপাতিত করার হুমকি দিয়েছে চীন। মার্কিন প্রশাসন এই মুহূর্তে নতুন যুদ্ধের ঝুঁকি নিতে কতটা প্রস্তুত, সে বিষয়ে সংশয় দেখা যাচ্ছে৷ চীন তাইওয়ানের উপর সরাসরি হামলা চালালে বাইডেন প্রশাসন  সামরিক হস্তক্ষেপ করবে কিনা, সেবিষয়ে হোয়াইট হাউস এখনও কিছু জানায় নি।

Link copied!