যেভাবে টিকে আছে মারিউপুলের শেষ ঘাঁটি: যুদ্ধরত ক্যাপ্টেনের বার্তা

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

এপ্রিল ২২, ২০২২, ০৯:৫৯ এএম

যেভাবে টিকে আছে মারিউপুলের শেষ ঘাঁটি: যুদ্ধরত ক্যাপ্টেনের বার্তা

অব্যাহত রুশ হামলার কারণে মারিউপুল শহরের দখল হারাতে বসেছে ইউক্রেনের সৈন্যরা। ইউক্রেনের বিতর্কিত আজব রেজিমেন্টের সৈন্যরা যে আজভস্টালের স্টিলের কারখানাটিকে ঘাটি করে রুশ সৈন্যদের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তের প্রতিরোধ করে যাচ্ছেন, সেখান থেকে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন ক্যাপটেন সিভাটোসলাভ পালামার।

তিনি দাবি করেছেন, এখনও মারিউপুল ইউক্রেনের সৈন্যদের দখলে। তিনি বলেছেন, যতক্ষণ তারা সেখানে থাকবেন, ততক্ষণ ইউক্রেনের দখল নিতে পারবে না রুশ বাহিনী। তবে শহরের অধিকাংশ এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে আটকা পড়ে আছেন বেসামরিক নাগরিকরা।

মারিউপুলের আজবস্টালের শেষ ঘাটি

এর আগে ওই ঘাটিতে রুশ হামলার তথ্যটি উড়িয়ে দেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির পুতিন। তিনি বলেন, আজব সাগরের এ বন্দরটিকে দখলে নেওয়াই ছিলো রুশ যুদ্ধ পরিকল্পনার মধ্যে অন্যতম। বন্দর নগরী মারিউপুলের পুরোপুরি দখল নিতে পারলে বন্দরটিকে কাজে লাগিয়ে পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস শহরে খুব সহজেই হামলা চালাতে পারবেন রুশ সৈন্যরা। মূলত দনবাসের লুহান্সক এবং দোনেৎস্ক শহরে রুশপন্থীদের ওপর ইউক্রেনের সৈন্যদের নির্যাতনের অভিযোগ থেকেই এবার ইউক্রেনের হামলা শুরু করে রুশ বাহিনী। রাশিয়া বলছে, ইউক্রেনেকে রাশিয়া নিজেদের অংশই মনে করে। এজন্য সেখানকার রুশপন্থীদের রক্ষায় দায়িত্বও তাদের।

আজব রেজিমেন্ট মূলত ইউক্রেনের ডানপন্থী নিও-নাজি গ্রুপ, যা পরবর্তিতে ইউক্রেনের ন্যাশনাল গার্ডের সঙ্গে এক হয়। মারিউপুলে শেষঘাটিটির দখল ধরে রাখা এ দলটির সঙ্গে ইউক্রেনের নৌ সেনা, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও পুলিশ কর্মকর্তারা রয়েছেন। ক্যাপ্টেন পালামার বলেছেন, রুশ সৈন্যদের প্রতিহত করার মত সৈন্য এখনো আজভস্টালের ঘাটিতে আছে। বেসামরিক নাগরিকরা যুদ্ধরত সৈন্যদের থেকে দূরে অবস্থান করছেন। প্রতিটি ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে একেকটি গ্রুপে ৮০ থেকে ১০০ জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। তবে ভবনগুলো রুশ গোলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেসব জায়গায় যেতে পারছেন না সৈন্যরা, যার ফলে বেসামরিক নাগরিকদের সংখ্যা নির্দিষ্ট করেও বলা যাচ্ছে না। এছাড়া এই ভবনগুলো থেকে বের হওয়ার পথে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে, যার ফলে ভবনগুলো থেকে নাগরিকরা বের হতেও পারছেন না। যান্ত্রিক কোন কিছু ছাড়া ধ্বংসাবশেষগুলো সরানোর কোন বিকল্পও নেই বলে জানিয়েছেন পালামার। আটকে পড়াদের দ্রুত বের করতে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ইউক্রেনের এ ক্যাপটেন। তিনি জানিয়েছেন, ঘাটির আশপাশের এলাকায় ৫০০ জনের মতো বেসামরিক নাগরিক গুরুত্বর আহত হয়ে বিনা চিকিৎসায় পড়ে আছেন। রুশ সৈন্যদের তারা বিশ্বাস করেন না। তাই লুকানো অবস্থা থেকে বের হচ্ছেন না তারা। তাদের ধারণা বের হলে রুশ সৈন্যরা তাদের নির্যাতন করতে পারে অথবা রিহ্যাবিলেটেশন সেন্টারের নামে জোর করে রাশিয়ায় পাঠিয়ে দেবে।

আনুমানিক ৫২দিন ধরে মারিউপুলের ওই এলাকায় ঘাটি করে রয়েছেন এসব নাগরিকরা। নিহত সৈন্যদের পূর্ণাঙ্গ সম্মানের সাথে সমাহিত করতে অনেক মরদেহ এখনো সমাহিত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা। ক্যাপ্টেন পালামার বলেন, সম্ভব হলে সৈন্যদেরকেও নিরাপদে সরে যাওয়ার রাস্তা দেওয়া হোক। তবে আত্মসমর্পনের কোন প্রশ্নই আসে না।

Link copied!