ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে এগিয়ে আছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস। ইন্টারনেটভিত্তিক জরিপ প্রতিষ্ঠান ইউগোভের সাম্প্রতিক জরিপে এ তথ্য জানা গেছে। জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাবেক অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাকের চাইতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস ২৮ শতাংশ এগিয়ে আছেন।

প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের উত্তরসূরি নির্বাচনের ব্যাপারে গত বৃহস্পতিবার কনজারভেটিভ পার্টির সদস্যরা চূড়ান্ত পর্যায়ের ভোট দেন। গত সপ্তাহের শুরুর দিকে ব্রিটিশদের ধারণা ছিল এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে ১৯ পয়েন্টের ব্যবধান থাকবে। তবে ওই ধারণা ভুল প্রমাণিত করে ঋষি সুনাকের চেয়ে অনেকে বেশি পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন বরিস জনসনের পছন্দের প্রার্থী লিজ ট্রাস।

ইউগোভের জরিপে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাস নিজের অবস্থানকে আগের চাইতে সুদৃঢ় করেছেন। কনজারভেটিভ পার্টির ৭৩০ জন সদস্যের মধ্যে ৬২ ভাগই বলেছেন তারা পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য ট্রাসকে ভোট দেবেন। মাত্র ৩৮ ভাগ সুনাককে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান।

কনজারভেটিভ পার্টির প্রধানই হবেন পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তাই পার্টির প্রধান নির্বাচনে প্রাথমিক বাছাইয়ের পাঁচটি পর্বেই ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋষি সুনাক প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাসের তুলনায় এগিয়ে ছিলেন। তবে গত বুধবারের ভোটে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসেন তিনি। শেষ মুহূর্তের বাছাইয়ে লিজ ট্রাস বড় চমক দেখাতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ব্রিটেনের রাজনৈতিক মহলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাসের নামই বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। বিবিসি, রয়টার্সসহ ব্রিটেনের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বর্তমান নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন। ট্রাস নিজের দলের মধ্যেও সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তি। ইউক্রেন-রাশিয়া ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি সরব থাকা ট্রাস বরিস জনসনের অত্যন্ত আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবেও পরিচিত।

গত সেপ্টেম্বরে ব্রিটেনের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান লিজ ট্রাস। ব্রিটেনের ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার আগে লিজ ট্রাস ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ে সাফল্যের সঙ্গে ব্রিটেনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংক্রান্ত দায়িত্ব সামলেছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন নিজেই কনজারভেটিভ দলের সদস্যদের লিজকে ভোট দেওয়ার ব্যাপারে আহবান জানিয়েছেন।

তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সাবেক অর্থমন্ত্রী ঋসি সুনাক শেষ মুহুর্তে চমক দেখালেও দেখতে পারেন। বর্তমানে কনজারভেটিভ পার্টির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাসীন এই ব্যক্তি ২০২০ সালে ব্রিটেনের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে ইতিহাস তৈরি করেন।
চলতি মাসের শুরুতে নানা কেলেঙ্কারির কারণে পদত্যাগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তার পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১০ প্রার্থী। চূড়ান্তভাবে টিকে যান সুনাক ও ট্রাস। দলের সদস্যদের ভোটাভুটির মাধ্যমে দুজনের মধ্যে একজনকে নির্বাচিত করা হবে।

ইউগোভ জরিপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য পার্টির সদস্যরা ৪ আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন।