সেপ্টেম্বর ৮, ২০২২, ০৬:২০ পিএম
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে এসেছেন, তবে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ায় নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রতি অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমসসহ বেশ কয়েকটি ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে এ তথ্য জানা গেছে।
গত সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর)) চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর ওই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠকও হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে কেন ডাকা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মমতা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কিছু বলতে চাই না। হাসিনার সঙ্গে আমার সঙ্গে সম্পর্ক খুব ভাল। এই প্রথম দেখলাম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এলেন কিন্তু বাংলা বাদ।’’
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি পররাষ্ট্র নীতি সম্পর্কে বলতে চাই না। কিন্তু নিজে দেখুন। হাসিনাজি নয়াদিল্লিতে এসেছেন। আমার সঙ্গে ওনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুবই ভাল। দুর্গাপুজোর সময়ে আমি ওনাকে চিঠি দিই। উনি আমাকে শাড়ি পাঠান। আম পাঠান, কখনও ইলিশ পাঠান। আমি শুনেছি, উনি এই সফরে আমার সঙ্গে দেখা করার জন্য ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু দিল্লি তা শোনেনি। এই প্রথম দেখলাম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দিল্লিতে এসেছেন, অথচ বাংলাকে বাদ দেওয়া হল।”
এখানেই শেষ নয়,মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “আমি একটি সংবাদমাধ্যমে হাসিনাজির বক্তব্য দেখলাম। সেখানেই ওঁর ইচ্ছের কথা শুনলাম। আমি কৃতজ্ঞ হাসিনাজি দেখা করতে চেয়েছিলেন। যাই হোক দেশের ব্যাপার বেশি বলতে চাই না।”
এরপরই নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বলেন, “এত রাগ কিসের। এত বড় বড় বাবুরা ভয় কেন পাচ্ছেন! কী রাগ, বাপরে বাপ। শিকাগো থেকে আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম, যেতে দিল না। চিন থেকে ডাক এসেছিল, আটকে দিল। স্টিফেন্স কলেজ থেকে আসা আমন্ত্রণেও যেতে দেয়নি। আমি তো বলি তোমরাই যাও ঘুরে এস। আমি বাংলায় ঘুরলেই গোটা বিশ্ব ঘোরা হয়ে যায়। ২০২৩ সালে বার্লিনে পুরস্কার তো বাংলাই পাবে।”
একইসঙ্গে বৃহস্পতিবার দিল্লিতে ইন্ডিয়া গেটে নেতাজি মূর্তি উন্মোচন অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, যথোযথ সম্মান দিয়ে তাঁকে ডাকা হয়নি।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমাকে একটা আন্ডার সেক্রেটারিকে দিয়ে চিঠি লিখিয়েছে। সাতটায় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন, তুমি ছটায় পৌঁছে যেও। যেন মাইনে করা চাকরবাকর আমি। এভাবে কোনও আন্ডার সেক্রেটারি মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিতে পারেন না। আমিও নিজেই এখানে আসার সময় নেতাজি মূর্তিতে নতুন করে মালা দিয়ে দিল্লির প্রোগ্রাম বাংলাতেই উদযাপন করে এলাম।”