শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে শপথ নিচ্ছেন আজ

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুলাই ২১, ২০২২, ০৯:১০ এএম

শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে শপথ নিচ্ছেন আজ

শ্রীলংকার নতুন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) শপথ নিচ্ছেন। স্থানীয় সময় বিকেলে তিনি শপথ নিতে পারেন বলে দেশটির একাধিক সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম ডেইলি মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল বুধবার পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রনিল বিক্রমাসিংহে পেয়েছেন ১৩৪ ভোট। তার নিকটতম প্রার্থী দুল্লাস আলাহাপ্পেরুমে পেয়েছেন ৮২ ভোট। অন্যদিকে, মাত্র তিন ভোট পেয়েছেন অনুরা কুমারা দিসানায়েক।

রনিল বিক্রমাসিংহে এর আগে, একই সঙ্গে দেশটির প্রধানমন্ত্রী এবং ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গোতাবায়া রাজাপাকসে দেশত্যাগের আগে তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে যান এবং পরে সিংগাপুর  থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।

১৯৪৮ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শ্রীলংকার ইতহাসে এই প্রথমবার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোট ছাড়াই শুধুমাত্র পার্লামেন্ট সদস্যদের ভোটে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। গোতাবায়া রাজাপক্ষের পদত্যাগের পর দেশের শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য অল্প সময়ের মধ্যে জনগণের ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সম্ভব না হওয়ায় পার্লামেন্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ি শুধুমাত্র সংসদ সদস্যদের  ভোটে ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

দেশটিতে বিক্ষোভ চলছেই 

এদিকে, জনসমর্থন ছাড়াই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরপরই প্রেসিডেন্ট ভবনের বাইরে বিক্ষোভ শুরু করে আন্দোলনকারীরা। প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের আগ পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটেনি। বিক্ষোভকারীরা আরও জানান, রনিল বিক্রমাসিংহে  সাবেক পদত্যাগকারী প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষের দলের সংসদ সদস্যদের ভোটেই প্রেসিডেন্ট  নির্বাচিত হয়েছেন। এর ফলে, মাহিন্দা রাজাপক্ষে ও তার ভাই সাবেক প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষের দুর্নীতির কোনো বিচার কাজ হতে দেবে না।

প্রসঙ্গত, ১৯৪৮ সালে ব্রিটেন থেকে স্বাধীন হওয়ার পর  সবচেয়ে কষ্টদায়ক অর্থনৈতিক দুরবস্থায় পড়েছে শ্রীলংকা। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্য ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কায় গোতাবায়া রাজাপাকসের গঠন করা সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলন সহিংসতার পর্যায়ে পৌঁছালে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। 

কিন্তু আন্দোলনকারীরা প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করতে থাকেন। গত ৯ জুলাই আন্দোলনকারীরা প্রেসিডেন্টে ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে হামলা চালায়।ওইসময় গোতাবায়া রাজাপাকসে প্রেসিডেন্ট বাসভবন থেকে পালিয়ে নৌবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে আশ্রয় নেন। পরে গত ১২ জুলাই শ্রীলঙ্কার একটি সামরিক বিমানে পরিবার নিয়ে মালদ্বীপে পালিয়ে যান তিনি। মালদ্বীপের জনগণ ও দেশটিতে থাকা প্রবাসী শ্রীলংকানরা গোতাবায়া রাজাপক্ষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তিনি পরে সিংগাপুর চলে যান। ওখান থেকেই পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।

Link copied!