ইউক্রেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের প্রস্তাবকে সমর্থন করেছেন ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও রোমানিয়ার নেতারা। তাদের অভিমত, ইউক্রেনকে ‘অবিলম্বে’ ইইউ প্রার্থীর মর্যাদা দেওয়া উচিত।
স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ওই চার দেশের নেতারা এমন অভিমত জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস বলেন, “ইউক্রেন ইউরোপীয় পরিবারের অন্তর্গত। তবে ইউক্রেনকে এখনও সম্পূর্ণরূপে যোগদানের মানদণ্ড পূরণ করতে হবে।”
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র খবরে বলা হয়, ফরাসি প্রেসিডেন্টি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জোর দিয়ে বলেছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে জয় না হওয়া পর্যন্ত ইউক্রেনের পাশে থাকবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
এর আগে, এলিসি প্রাসাদের বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ, জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস, ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘি ও রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট ক্লাউস ইয়োহানিস কিয়েভ সফরে যান। পরে তাঁরা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ইউক্রেনকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে আরও অস্ত্র সহায়তা দেওয়ার ঘোষণার এক দিন পর তাঁরা এ সফর করেন।
প্রসঙ্গত, উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট ন্যাটোর সদস্য পদের জন্য কয়েক বছর আগে আবেদন করা নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এর মধ্যে ন্যাটো ইউক্রেনকে ‘সহযোগী দেশ’ হিসেবে মনোনীত করায় মস্কো-কিয়েভের দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়। ন্যাটোর সদস্যপদের আবেদন প্রত্যাহারে চাপ প্রয়োগ করতে যুদ্ধ শুরুর দুই মাস আগ থেকেই ইউক্রেন সীমান্তে প্রায় দুই লাখ সেনা মোতায়েন রাখে মস্কো।
তবে ওই কৌশল কাজে না আসায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দুই ভূখণ্ড দনেতস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় রাশিয়া। এর দুদিন পর ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর থেকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ চলছে।
রাশিয়ার হামলার ঝুঁকির মধ্যেই গত মার্চে কিয়েভ সফরে যান ইউরোপের তিন দেশ পোল্যান্ড, স্লোভেনিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রীরা। পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ কূটনীতিকেরা কিয়েভে গিয়ে ইউক্রেনের জনগণের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
তবে সর্বশেষ জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালির নেতাদের কিয়েভ সফরকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। ইউরোপের এই তিন নেতা কিয়েভের কাছে বিধ্বস্ত শহর ইরপিন পরিদর্শন করেন। ওই শহরটি কয়েক সপ্তাহ ধরে রাশিয়ার দখলে ছিল। ইরপিন এবং বুচা শহরে শত শত বেসামরিক লোককে হত্যা করে রুশ সেনারা যুদ্ধাপরাধ করেছে বলে ইউক্রেনের অভিযোগ। তবে কিয়েভের ওই দাবি মস্কো অস্বীকার করেছে।