মে ১০, ২০২৩, ১০:২৭ এএম
সাংবাদিককে যৌন নির্যাতন মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ সাংবাদিক ও লেখক জিন ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওই মামলায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার জরিমানা করেছে ম্যানহাটন ফেডারেল আদালত।

সিএনএন, সিবিএস ও নিউইয়র্ক টাইমসসহ বেশ কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেডারেল আদালতের ৯ সদস্যের বিচারক বোর্ড এই মামলায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ৫০ লাখ ডলার জরিমানা করেছেন। বিচারকরা জরিমানার এই টাকা ক্যারলকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে বলেছেন। প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে আলোচনা করে তারাএই রায় দেন ।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, জিন ক্যারলের সম্মতি ছাড়া শারীরিক স্পর্শের জন্য ২০ লাখ ডলার আর তাকে মানহানি করায় ৩০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে। বিচার চলাকালীন সাংবাদিকের আনা ধর্ষণের অভিযোগ খারিজ করে দেন আদালত। ৯ সদস্যের বিচারকবোর্ডের সবাই যৌন নির্যাতন ও মানহানির ঘটনায় ট্রাম্পকে দোষি সাব্যস্ত করে দেওয়া রায়ে একমত হয়েছেন। বিচারক বোর্ডে ৬ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী ছিলেন।
আদালতের বিচারক প্যানেল বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯৯৬ সালের বসন্তে একটি বিলাসবহুল ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের ড্রেসিং রুমে জিন ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন এবং তাকে মিথ্যাবাদী হিসেবে চিহ্নিত করে মানহানি করেছেন।
প্রসঙ্গত, মার্কিন সাংবাদিক, লেখক এবং কলামিস্ট ই জিন ক্যারল বর্তমানে ৭৯ বছর বয়সী৷ গত বছরের এপ্রিলে আদালতে শুনানির সময় তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁকে একটি বিলাসবহুল ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে নিয়ে ধর্ষণ করেছিলেন। ওই সময় ক্যারল বলেন, ১৯৯৬ সালের সেই সন্ধ্যায় বার্গডর্ফ গুডম্যানে ট্রাম্পের সাথে দেখা করেছিলেন তিনি৷ ওইসময় ডোনাল্ড ট্রাম্প মহিলাদের অন্তর্বাস কেনার জন্য তার সাহায্য চেয়েছিলেন এবং চেঞ্জিং রুমে তাকে ধর্ষণ করেন।
আদালতে জিন ক্যারল ওই সময় আরও বলেন, তাকে ধর্ষণ করার বিষয়টি শুধুমাত্র তাঁর বন্ধুদের বলেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে মি টু -র সময়ে তিনি এই মারাত্মক ঘটনা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন।
এদিকে, রায় ঘোষণার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। গত ২৫ এপ্রিল শুরু হওয়া এই বিচারকাজের পুরোটা সময় তিনি অনুপস্থিত ছিলেন ট্রাম্প। তাঁর ভিডিও বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এই রায়কে ‘অসম্মানজনক’ অভিহিত করেছেন সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তিনি বলেছেন, ‘এই নারী সম্পর্কে আমার কোনো রকম ধারণা নেই।এই ঘটনা সর্বৈব মিথ্যা এবং ভ্রান্ত ও মনগড়া কাহিনী৷ তিনি কোনও মহিলাকে যৌন হেনস্তা করেননি৷’
এদিকে,ট্রাম্পের মুখপাত্র স্টিভেন চেউং বলেছেন, ক্যারলকে যৌন হয়রানি ও মানহানি মামলার এই রায়ের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্প আপিল করবেন। অবশ্য আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে ক্ষতিপূরণের অর্থ দিতে হবে না। ডোনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে আসছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছেন।