গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত সুদানে একটি বাঁধ ভেঙে অন্তত ৬০ জনের প্রাণ গেছে। ভারী বৃষ্টির কারণে আকস্মিকভাবেই ওই বাঁধ ভেঙে যায় ও বিপর্যয় দেখা দেয়। এই অবস্থায় এখন সেখানে তল্লাশি অভিযান চলছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
জানা গেছে, আরবাত বাঁধের ধারণক্ষমতাবিশিষ্ট ২৫ মিলিয়ন কিউবিক মিটারের এই বাঁধ দেশটির পানীয় জলের প্রধান উৎস। এটি পোর্ট সুদানের উপকূলীয় শহরে অবস্থিত।
সুদানে গত ১৬ মাস ধরে গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত দেশটি এখন প্রবল বৃষ্টি ও বন্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এতে বহু লোক নিহত ও আরও কয়েক হাজার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এই বাঁধের পতনে খামার এবং বহু গ্রাম ভেসে গেছে। এ-প্রসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা আলি ইসা আল জাজিরাকে বলেন, “লোকজন সাতটি গাড়িতে আটকে ছিল। আমরা তাদের বের করার চেষ্টা করেও সক্ষম হইনি।”
আরেক বাসিন্দা মুসা মোহাম্মদ মুসা বলেন, “বাঁধে ভাঙনের পর একটি এলাকায় সব ঘরবাড়ি ও সবকিছু ভেসে গেছে।”
বেসরকারি মালিকানাধীন রেডিও দাবাঙ্গা ওয়েবসাইটে সুদানে বাঁধ ভাঙার ফলে যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে, ভারী বৃষ্টির কারণে সুদানে ফাইবার-অপটিক তারেরও ক্ষতি হয়েছে। এর ফলে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের অনেকাংশেই যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় একটি সংবাদপত্রে বলা হয়েছে, পাহাড়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে সুদানের বিমান বাহিনী। দেশটির পানি কর্তৃপক্ষের পরিচালক ওমর ইসা তাহিরের বরাত দিয়ে স্থানীয় অনলাইন আখবারের খবরে বলা হয়েছে, বন্যায় পুরো এলাকা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন দেশটির সেনাপ্রধান আবদুল-ফাত্তাহ আল-বুরহান। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সব ফেডারেল ও রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে এই অঞ্চলের নাগরিকদের সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে সেনাবাহিনী।
উল্লেখ্য, আধাসামরিক গোষ্ঠী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এবং সুদানের সেনাবাহিনীর মধ্যে গত বছরের এপ্রিল থেকে লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকে সুদান যুদ্ধে নিমজ্জিত রয়েছে। লাখ লাখ মানুষ তাদের বাড়িঘর থেকে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে এবং একাধিক প্রদেশে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। এমন অবস্থায় আশঙ্কা করা হচ্ছে, চরম এই আবহাওয়া পরিস্থিতি দেশটিতে সৃষ্টি হওয়া খাদ্য ঘাটতি আরও বাড়িয়ে তুলবে।
সূত্র: আল জাজিরা