ছবি: সংগৃহীত
মেক্সিকোর অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ ও প্রাচীন পিরামিড নগরী তেওতিহুয়াকানে বন্দুকধারীর হামলায় এক কানাডীয় নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন পর্যটক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) ঘটনার পর হামলাকারী নিজেও আত্মহত্যা করে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
নিহত কানাডীয় নাগরিকের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ। তিনি জানান, এই হামলায় আরও এক কানাডীয় নাগরিক আহত হয়েছেন। বর্তমানে মেক্সিকোতে কানাডার দূতাবাসের কর্মকর্তারা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা প্রদান করছেন। মেক্সিকোর নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, আহতদের মধ্যে কানাডা ছাড়াও কলম্বিয়া ও রাশিয়ার নাগরিক রয়েছেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ব্রিটিশ দম্পতি বিবিসিকে জানান, পিরামিডের কাছে ছবি তোলার সময় হঠাৎ গুলির শব্দে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা বলেন, মানুষ জীবন বাঁচাতে দৌড়াতে শুরু করে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, চারদিকে চিৎকারের আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল।
পর্যটকদের অভিযোগ, বিশ্বখ্যাত এই প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল ছিল। তাদের মতে, প্রবেশপথে কোনো তল্লাশির ব্যবস্থা ছিল না এবং ঘটনার সময় দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কোনো সমন্বিত উদ্যোগও দেখা যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি আগ্নেয়াস্ত্র, একটি ধারালো অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করেছে।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবম এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, তেওতিহুয়াকানে আজ যা ঘটেছে, তা আমাদের গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।
ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান তেওতিহুয়াকান এবং অ্যাজটেক সভ্যতার স্মৃতিচিহ্ন দেখতে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক মেক্সিকোতে ভিড় করেন। আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বকাপ চলাকালীন প্রায় ৫৫ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটক মেক্সিকো ভ্রমণ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস